স্বপ্নকেও হার মানানো বসুন্ধরা সুপার গলফ
রাশেদুর রহমান
গলফ কোর্সে একটি জোরালো শট খেললে বল ছুটে যায় কয়েক শ ফুট দূরে। চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়। সাধারণ গলফ কোর্সে বল খুঁজতে হয়। অনেক সময় হারিয়েও যায়। সেই বল খুঁজে পেলে বলবয়রা কুড়িয়ে এনে দেন। কিন্তু বসুন্ধরা সুপার গলফের গল্পটা একটু অন্যরকম। শট শেষ হওয়ার পর বলটি মাঠের নিচে থাকা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় চলে যায়। নির্দিষ্ট পাইপ ধরে পৌঁছে যায় মেশিন সংগ্রহস্থলে। সেখানে অটোমেটিক মেশিন ধুয়ে পরিষ্কার করে বলটি। তারপর আবার নির্দিষ্ট পাইপের মাধ্যমে প্রতিটি বে’র নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত বলটি পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট বে’র টি পয়েন্টে। খেলোয়াড় তখন পরের শটের জন্য প্রস্তুত। বল খোঁজার ঝামেলা নেই। সবকিছুই চলছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায়। স্বপ্নকেও যেন হার মানিয়ে দেয়! গলফকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন বাংলাদেশ তো বটেই, উপমহাদেশের জন্যই এক নতুন চমক। ২৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করছে বসুন্ধরা সুপার গলফ।
বিস্তৃত পরিসরে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা সুপার গলফের মূল ভাবনা ‘মোর দ্যান গলফ’। অর্থাৎ এখানে শুধু গলফ খেলা নয়, পরিবার, বন্ধু, ব্যবসায়িক সভা কিংবা অবসর বিনোদন-সবকিছুর জন্যই রয়েছে আলাদা আয়োজন।
সুবিশাল এই স্থাপনায় রয়েছে ৬৮টি ডিলাক্স বে। প্রতিটি বে-তে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন খেলতে পারবেন। নির্দিষ্ট ঘণ্টাভিত্তিক খরচে এখানে গলফ খেলার পাশাপাশি পাশের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবারও অর্ডার করা যাবে। ফলে খেলার ফাঁকে খাবার কিংবা আড্ডার ব্যবস্থাও থাকছে হাতের নাগালে।
আরও বিশেষ আয়োজন রয়েছে ১৭টি ভিআইপি সুইটে। প্রতিটি সুইটে সর্বোচ্চ ১৬ জন একসঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। এখানে রয়েছে আলাদা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ব্যক্তিগত বৈঠকের সুযোগ এবং ব্যবসায়িক উপস্থাপনার ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে খাবারও অর্ডার করা যাবে রেস্টুরেন্ট থেকে। ফলে বিনোদনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক আয়োজনের জন্যও ব্যবহার করা যায় এসব সুইট।
ডিলাক্স বে ও ভিআইপি সুইট-দুই জায়গাতেই রয়েছে গলফ খেলার ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট অ্যাপে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলে কিংবা গেস্ট হিসেবে ব্যবহার করে খেলায় অংশ নেওয়া যায়। অ্যাকাউন্ট খুলে নিলে পাওয়া যাবে বাড়তি সুবিধা। নিজের সেরা শটটা চাইলেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে। বন্ধুদের কাছ থেকে পেতে পারেন উৎসাহ। ড্রাইভিং রেঞ্জে সত্যিকারের শট নিয়ে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় বিশ্বের বিখ্যাত গলফ কোর্সে খেলার সুযোগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছে সেন্ট অ্যান্ড্রুসের মতো ঐতিহাসিক কোর্সও। দুই জায়গাতেই রয়েছে শাওয়ারের সুবিধা। এখানে কেবল গলফই নয়, স্টুডেন্টদের জন্যও আছে দারুণ আয়োজন। খেলার পাশাপাশি চাইলে ওপেন ডিসকাশন করতে পারবেন। খেলার ফাঁকে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে সমাধান খুঁজতে পারেন কঠিন বিষয়গুলোর। আর সাধ্যের মধ্যেই পাওয়া যাবে এসব সুবিধা। গলফ ব্যক্তিগতভাবে খেলতে গেলে প্রয়োজন নানান প্রস্তুতির। ক্লাব ছাড়াও আছে নানান ধরনের খরচ। বসুন্ধরা সুপার গলফে একসঙ্গেই পাওয়া যাবে সব সুবিধা। ক্লাব তো থাকছেই, আছে আনলিমিটেড বল। এক্সক্লুসিভ খেলা গলফকে ইনক্লুসিভই পাওয়া যাবে বসুন্ধরা সুপার গলফে। সকাল ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ থাকায় সময় নিয়েও খুব বেশি ভাবতে হয় না। খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য ডিলাক্স বে’তে রয়েছে অফ-পিক লো, অফ-পিক মিড ও পিক-তিন ধরনের সময়ভিত্তিক আয়োজন। অফ-পিক লো চলবে সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। রবি থেকে বুধ রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলবে অফ-পি লো। এই সময়ে ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকায় খেলতে পারবেন ছয়জন। অফ-পিক মিড চলবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্তও চলবে অফ-পি মিড। এই সময়ে ঘণ্টাপ্রতি ৫ হাজার টাকায় খেলতে পারবেন ছয়জন। ডিলাক্স বে’তে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে পিক। এই সময়ে ঘণ্টাপ্রতি ৬ হাজার ৫০০ টাকায় খেলতে পারবেন ছয়জন। ভিআইপি সুইটস পাওয়া যাবে কেবল পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত)। ভিআইপি সুইটসে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে খেলতে পারবেন ১৬ জন। গলফের এমন আয়োজন বাংলাদেশ তো বটেই, উপমহাদেশেই অনন্য উদাহরণ স্থাপন করতে যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্লাটিনাম মেম্বারশিপ নেওয়া যাবে। প্রতি বছর ২ লাখ টাকায় নেওয়া যাবে এ মেম্বারশিপ। রবি থেকে বৃহস্পতি বিকাল ৫টা থেকে এবং শুক্র ও শনিবার বেলা ৩টা থেকে খেলা যাবে প্লাটিনাম মেম্বারশিপে। এ ছাড়া রেস্টুরেন্টে ১০ এবং মিটিং ও ইভেন্টে ১৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। অল অ্যাকসেস প্লাটিনাম প্লাস মেম্বারশিপও আছে। প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা দিয়ে নেওয়া যাবে এ মেম্বারশিপ। এতে যেকোনো দিন যেকোনো সময়ের জন্য আনলিমিটেড খেলার ব্যবস্থা থাকবে। মিটিং ও ইভেন্টে ২০, রেস্টুরেন্টে ১৫ ও ভেন্যুতে ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে এ মেম্বারশিপে। প্রতি মাসে একবার ভিআইপি সুইটস ব্যবহার করা যাবে বিকাল ৫টার আগে। এ ছাড়া করপোরেট প্লাটিনাম ও করপোরেট প্লাটিনাম প্লাস মেম্বারশিপ রয়েছে। আছে ফ্যামিলি প্যাকেজ, সাবক্রিপশন ও বাইআউটসও। গলফের বাইরে খাবারের আয়োজনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ক্যাফে অ্যামাজন, টেরা চায়না ও আরবান ক্রেভ-বিভিন্ন স্বাদের খাবারের জন্য রয়েছে আলাদা আয়োজন। টেরা চায়নায় চীন ও জাপানের ঐতিহ্যকে নকশা ও পরিবেশে তুলে ধরা হয়েছে। আছে ব্যানকুইট হল। এখানে সামাজিক অনুষ্ঠান করা যাবে। মেহেদিসন্ধ্যা কিংবা অন্য যেকোনো আয়োজন সহজেই এখানে করতে পারবেন। করপোরেট অনুষ্ঠানের জন্যও রয়েছে দারুণ সুযোগ। পরিবার নিয়ে যাঁরা আসবেন, তাঁদের বাচ্চাদের জন্য রয়েছে কিডস ক্লাব। শিশুদের জন্য নানান আয়োজনে সাজানো হয়েছে এ ক্লাব। এখানে বার্থডে পার্টির আয়োজনও করা যাবে।

বসুন্ধরা সুপার গলফের আরেকটি আকর্ষণ ‘নাইনটিনথ হোল’। ইউরোপের গলফ সংস্কৃতিতে ১৮ হোলে খেলা শেষ করার পর খেলোয়াড়রা একসঙ্গে বসে আড্ডা দিতেন, আনন্দ করতেন, উদ্যাপন করতেন। সেই আড্ডার জায়গাটিই পরিচিত হয়ে ওঠে নাইনটিনথ হোল নামে। সেই ঐতিহ্যের ভাবনা থেকেই এখানে তৈরি হয়েছে নাইনটিনথ হোল রেস্টুরেন্ট।
গলফ অনুশীলনের জন্য রয়েছে চারটি ইনডোর সিমুলেটর। এতে ২০৭টি গলফ কোর্সে খেলার জন্য ভার্চুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। বাস্তব কোর্সের মতো অনুভূতি দিতে উঁচু-নিচু ভূখণ্ডের পরিস্থিতিও তৈরি করা যায়। পাটিংয়ের জন্য রয়েছে তিনটি হোল। একসঙ্গে আটজন পর্যন্ত লগইন করে খেলতে পারেন। কিডস, লেডিস ও মেনস-বিভিন্ন বিভাগে খেলার সুযোগ রয়েছে। চাইলে আয়োজন করা যাবে টুর্নামেন্টও। শুধু খেলা আর বিনোদন নয়, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য রয়েছে মেডিকেল রুম। ছোটবড় বৈঠকের জন্য রয়েছে পাঁচটি মিটিং রুম। দুই থেকে ১০ জন পর্যন্ত একসঙ্গে বসে সেখানে বৈঠক করতে পারবেন। আড্ডার সঙ্গে খেলার সুযোগ রয়েছে বিলিয়ার্ড রুমে।
এখানে তিনটি বিলিয়ার্ড বোর্ড রয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে খেলা যাবে। সব মিলিয়ে বসুন্ধরা সুপার গলফ যেন শুধু গলফ খেলার জায়গা নয়। এখানে একটি শট থেকে শুরু করে খাবার, আড্ডা, ব্যবসায়িক বৈঠক, শিশুদের বিনোদন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো-সবকিছুর জন্যই রয়েছে আলাদা আয়োজন। আর মাঠে ছোড়া সেই বলটি যখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ফিরে আসে টি পয়েন্টে তখন বোঝা যায় এখানে গলফের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিনোদনের গল্পটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা সুপার গলফের হেড অব অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউর রহমান খান। এ ছাড়াও বে অপারেশনস ম্যানেজার অ্যান্ড হেড অব পিআর হিসেবে আছেন অরূপ ফেভিয়ান গমেজ। তাদের মতে, বসুন্ধরা সুপার গলফ কেন্দ্র করে খুব শিগগিরই একটি দারুণ কমিউনিটি গড়ে উঠবে। যেখানে গলফের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্ক আর বিনোদন এক সুতোয় গাঁথা পড়বে।

বসুন্ধরা সুপার গলফের আকর্ষণীয় স্থাপনা। বসুন্ধরায় গড়ে ওঠা গলফের এ আয়োজন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গলফের সঙ্গে নানা আয়োজনে অতিথিদের আনন্দমুখর সময় কাটানোর দারুণ এক সুযোগ উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা সুপার গলফ
ডিলাক্স বে
গলফ মানেই শুধু মাঠে গিয়ে বল ও ক্লাব নিয়ে খেলা নয়; খেলতে খেলতেই খাওয়া, আড্ডা কিংবা বিনোদনের সুযোগও থাকতে পারে। এমন ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দিচ্ছে বসুন্ধরা সুপার গলফ। ‘মোর দ্যান গলফ’ থিম সামনে রেখে গড়ে ওঠা এ স্থাপনায় রয়েছে ৬৮টি ডিলাক্স বে।
প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় থাকা প্রতিটি ডিলাক্স বে’তে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন অংশ নিতে পারবেন। নির্দিষ্ট ঘণ্টাপ্রতি খরচে এখানে গলফ খেলার সুযোগ রয়েছে। বন্ধু, পরিবার কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে একটি আলাদা আয়োজন। অফিসের দীর্ঘ কাজের চাপ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লান্তিকর ক্লাস শেষ করে এখানে সময় কাটিয়ে নিজেকে ফুরফুরে করে নেওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। এখানে প্রতিটি বে’র জন্যই আছে বে হোস্ট। গলফ খেলার সবকিছু নিয়েই তাদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্রেনিং। গলফসংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতা চাইলেই পাওয়া যাবে বে হোস্টদের কাছ থেকে।
ডিলাক্স বে’তে শুধু গলফ খেলার সুযোগই নয়, পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশের রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দের খাবার অর্ডার করা যাবে। অর্থাৎ গলফের বিরতিতে বাইরে গিয়ে খাবার খুঁজতে হবে না। খেলার জায়গা থেকেই খাবারের অর্ডার দেওয়ার সুবিধা থাকছে। বে রানারকে বললেই সব ব্যবস্থা করে দেবেন। এখানে বাস্তব গলফের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। ডিলাক্স বে থেকে অ্যাকাউন্ট খুলে কিংবা অতিথি হিসেবেও গলফ খেলা যাবে। একই সঙ্গে ড্রাইভিং রেঞ্জে বাস্তব শট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত গলফ কোর্সে খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত সেন্ট অ্যান্ড্রুসসহ বিভিন্ন গলফ কোর্সের পরিবেশ প্রযুক্তির মাধ্যমে উপভোগ করা সম্ভব। নতুন খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অভিজ্ঞ গলফারদের জন্যও রয়েছে অনুশীলন ও বিনোদনের সুযোগ। ডিলাক্স বে’তে রয়েছে শাওয়ার সুবিধাও। সকাল ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত এখানে ঘণ্টাপ্রতি খেলা যায়। সময়ের ভিত্তিতে রয়েছে অফ-পি লো, অফ-পি মিড ও পিক আওয়ার সুবিধা। সময় অনুযায়ী খরচের তারতম্যও এক দারুণ সংযোজন। বিস্তৃত পরিসরে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা সুপার গলফে তাই ডিলাক্স বে শুধু গলফ খেলার জায়গা নয়, এখানে খেলা, খাবার ও বিনোদন মিলেছে এক বিন্দুতে। স্টুডেন্টরা চাইলেই এখানে এসে গলফের পাশাপাশি গ্রুপ ডিসকাশনও সেরে নিতে পারবেন। তাও সাধ্যের মধ্যেই।

নাইনটিনথ হোল
গলফের সঙ্গে আড্ডার সম্পর্ক পুরোনো। ইউরোপে ১৮ হোলে খেলা শেষ করার পর খেলোয়াড়রা একসঙ্গে বসতেন। গল্প করতেন। নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নিতেন। খুনসুটিতে মেতে উঠতেন। খেলার পরের সেই মিলনস্থল একসময় পরিচিত হয়ে ওঠে ‘নাইনটিনথ হোল’ নামে।
গলফের এই ঐতিহ্যবাহী ধারণা সামনে রেখেই বসুন্ধরা সুপার গলফে তৈরি হয়েছে ‘নাইনটিনথ হোল’ রেস্টুরেন্ট। বিস্তৃত পরিসরে জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই গলফ কমপ্লেক্সে এটি শুধু খাবারের জায়গা নয়, গলফ শেষে সময় কাটানোর একটি বিশেষ পরিসরও।
‘মোর দ্যান গলফ’ ধারণায় বসুন্ধরা সুপার গলফে খেলার সঙ্গে বিনোদন ও সামাজিকতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ভাবনারই অংশ নাইনটিনথ হোল। গলফ কোর্সে ১৮ হোলের লড়াই শেষ করার পর খেলোয়াড়দের একসঙ্গে বসে গল্প করার যে সংস্কৃতি সেটিই এখানে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে সময় কাটানো-সবই করা যাবে এখানে।
গলফ খেলা শেষ হলেও আনন্দ যেন সেখানেই শেষ না হয়। খেলোয়াড়রা চাইলে নাইনটিনথ হোলে বসে খাবার খেতে পারবেন। নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। দিনের খেলা নিয়ে গল্পও জমাতে পারবেন।
গলফ কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগের এমন সংস্কৃতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিনের। বসুন্ধরা সুপার গলফ সেই ধারণা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। এখানে গলফারদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে নাইনটিনথ হোল হয়ে উঠতে পারে গলফের বাইরের একটি আলাদা আকর্ষণ।
বসুন্ধরা সুপার গলফের মূল ভাবনা-গলফের অভিজ্ঞতা শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খেলার আগে, খেলার সময় এবং খেলার পরও থাকবে নানা আয়োজন। নাইনটিনথ হোল সেই ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গলফ শেষ। কিন্তু আড্ডা বাকি। সেই আড্ডার জায়গাটিই নাইনটিনথ হোল। এখানে ঐতিহাসিক গলফ আড্ডাকে নিয়ে আসা হয়েছে আধুনিক রেস্টুরেন্টে। নাইনটিনথ হোল রেস্টুরেন্ট গলফপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক সুযোগ নিয়ে এসেছে।

ইনডোর সিমুলেটর
গলফ খেলার জন্য সব সময় খোলা মাঠের প্রয়োজন নেই। প্রযুক্তির সাহায্যে ঘরের ভিতরেও পাওয়া যেতে পারে বাস্তব গলফ কোর্সের অভিজ্ঞতা। বসুন্ধরা সুপার গলফে রয়েছে এমন চারটি ইনডোর সিমুলেটর। তিনটি ইনডোর সিমুলেটরে খেলতে পারবেন গেস্টরা। একটি সিমুলেটরে গলফ কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগও আছে। সেখানে কেউ চাইলেই গলফ শিখতে পারবেন।
এখানে ২০৭টি বিশ্বখ্যাত গলফ কোর্সে খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাস্তব কোর্সের পরিস্থিতি যতটা সম্ভব কাছাকাছি আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।
ইনডোর সিমুলেটরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন ধরনের ভূপ্রকৃতির অভিজ্ঞতা। বাস্তব মাঠের মতো উঁচু-নিচু পরিস্থিতিও তৈরি করা যায়। ফলে শুধু সমতল জায়গায় বল মারার অভিজ্ঞতা নয়, বিভিন্ন ধরনের কোর্সের পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে পাটিংয়ের জন্য রয়েছে তিনটি হোল। এতে গলফের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটিও অনুশীলন করা সম্ভব। খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তব প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও নিতে পারবেন।
একটি সেশনে সর্বোচ্চ আটজন লগইন করে খেলতে পারবেন। ফলে একা খেলার পাশাপাশি দলবদ্ধভাবেও সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
এখানে কিডস, লেডিস ও মেনস-তিন ধরনের অপশনে খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বয়স ও অংশগ্রহণকারীর ধরন অনুযায়ী খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়া যাবে।
শুধু ব্যক্তিগত খেলার মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ নয়, চাইলে টুর্নামেন্টও আয়োজন করা যাবে। এতে বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কিংবা বিভিন্ন আয়োজনের অংশ হিসেবেও ইনডোর সিমুলেটর ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রযুক্তি ও বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি এ ব্যবস্থা গলফকে নিয়ে এসেছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতায়। বাইরে আবহাওয়া যেমনই থাকুক, ঘরের ভিতরেই গলফ খেলার সুযোগ থাকছে। বসুন্ধরা সুপার গলফের স্লোগান যেন ইনডোর সিমুলেটরে আরও দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ইনডোর সিমুলেটর কেবল খেলার জগৎই নয়, এটি অনুশীলন, বিনোদন ও প্রতিযোগিতারও একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম।
বিলিয়ার্ড রুম
গলফ খেলতে এসে শুধু গলফেই সময় কাটাতে হবে এমন নয়, খেলাধুলার পাশাপাশি আড্ডা ও বিনোদনের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। বসুন্ধরা সুপার গলফে তেমনই একটি আকর্ষণ বিলিয়ার্ড রুম।
এখানে রয়েছে তিনটি বিলিয়ার্ড বোর্ড। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে খেলার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সহকর্মী কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও সময় কাটানো যাবে। বিলিয়ার্ড অনেকের কাছেই শুধু একটি খেলা নয়, এটি আড্ডারও অংশ। একটি ম্যাচ চলার সময় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অন্যরাও বসে গল্প করতে পারেন। সেই পরিবেশ মাথায় রেখেই বিলিয়ার্ড রুম সাজানো হয়েছে।
গলফের সঙ্গে আরও নানা ধরনের বিনোদন ও সামাজিক আয়োজন যুক্ত করার ধারণা থেকেই বসুন্ধরা সুপার গলফে বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে গলফ খেলার পর কিংবা গলফের বিরতিতে অন্য ধরনের খেলার স্বাদও নেওয়া সম্ভব। চাইলে শুধু আড্ডাও দেওয়া যাবে। আবার বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে বিলিয়ার্ড খেলা যেতে পারে। পরিচিতদের নিয়ে ব্যবসায়িক আলাপও সেরে নিতে পারবেন সহজেই।
এ ধরনের আয়োজনের ফলে একটি জায়গায় এসে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ গলফ খেলবেন। কেউ বিলিয়ার্ডে সময় কাটাবেন। আবার কেউ আড্ডা ও খাবারের মাধ্যমে সময় উপভোগ করবেন।
বসুন্ধরা সুপার গলফের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে বিলিয়ার্ড রুম তাই আলাদা একটি বিনোদন কেন্দ্র। গলফের বাইরে অন্য খেলাধুলার স্বাদও পাওয়া যাবে এখানে।
দিনের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিতে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে বিলিয়ার্ড হতে পারে একটি সহজ আয়োজন। তিনটি বিলিয়ার্ড বোর্ড ঘিরে সেই সুযোগই তৈরি করেছে বসুন্ধরা সুপার গলফ।
গলফের সঙ্গে আড্ডা, আর আড্ডার সঙ্গে বিলিয়ার্ড-এভাবেই বসুন্ধরা সুপার গলফে যুক্ত হয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা। বিলিয়ার্ড খেলার খরচও এখানে সাধ্যের মধ্যে। মাত্র ৫০০ টাকায়ই খেলা যাবে গেম। দুজন মিলে চালানো যাবে আড্ডাও। এ ছাড়াও সুযোগ আছে ঘণ্টাপ্রতি চারজনের খেলারও। বিলিয়ার্ড রুম বসুন্ধরা সুপার গলফে এনেছে বৈচিত্র্য।
ভিআইপি সুইটস
গলফ খেলার পাশাপাশি ব্যবসায়িক বৈঠক কিংবা ব্যক্তিগত আয়োজন-সবকিছুর সুযোগ এক জায়গায়। এমন সুবিধা নিয়ে বসুন্ধরা সুপার গলফে রয়েছে ১৭টি ভিআইপি সুইটস। প্রতিটি সুইটসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জন অংশ নিতে পারবেন। তৃতীয় তলায় অবস্থিত এসব সুইটস থেকে গলফের ড্রাইভিং রেঞ্জের দিকে তাকালে মুগ্ধ হয়ে যাবেন যে কেউ।
ভিআইপি সুইটসগুলোকে শুধু গলফ খেলার জায়গা হিসেবে তৈরি করা হয়নি, এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত মিটিংয়ের সুযোগ। ব্যবসায়িক আলোচনা কিংবা ছোট পরিসরের আয়োজনও করা যাবে। প্রতিটি সুইটসে রয়েছে আলাদা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে রয়েছে প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থাও। ফলে গলফের পাশাপাশি করপোরেট মিটিং আয়োজন করা সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আড্ডা কিংবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও ব্যবহার করা যাবে এসব সুইটস। ভিআইপি সুইটসে বসেই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করা যাবে। খেলার মাঝে খাবারের জন্য আলাদা জায়গায় যেতে হবে না। এতে একই পরিসরে খেলা, খাবার ও বৈঠকের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাকাউন্ট খুলে অথবা অতিথি হিসেবেও গলফ খেলা যাবে। পাশাপাশি ড্রাইভিং রেঞ্জে সত্যিকারের শট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত গলফ কোর্সে খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। সেন্ট অ্যান্ড্রুসসহ বিশ্বের সেরা গলফ কোর্সের পরিবেশ প্রযুক্তির মাধ্যমে উপভোগ করা সম্ভব। বাস্তব শটের সঙ্গে ভার্চুয়াল কোর্সের অভিজ্ঞতা গলফকে করে তুলেছে আরও বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি ভিআইপি সুইটসে রয়েছে আধুনিক শাওয়ার সুবিধা। বসুন্ধরা সুপার গলফের ‘মোর দ্যান গলফ’ ধারণার অন্যতম উদাহরণ এই ভিআইপি সুইটস। এখানে গলফের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবসা, খাবার, বিনোদন ও ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুবিধা। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে কিছু সময়ের জন্য প্রাণবন্ত থাকার এক দারুণ স্থান হতে পারে বসুন্ধরা সুপার গলফের ভিআইপি সুইটস। এখানেও ডিল্যাক্স বে’র মতোই বে হোস্ট থাকবেন। থাকবেন বে রানারও। বে হোস্ট গলফ খেলায় সহযোগিতা করবেন। আর বে রানার দেখবেন খাবারের আয়োজনসহ অন্য বিষয়গুলো। ভিআইপি সুইটসে পাওয়া যাবে নানান সুযোগসুবিধা। বিশেষ করে মেম্বারশিপ নিলে বছরজুড়েই নেওয়া যাবে গলফের আনন্দ।
কিডস ক্লাব
গলফের আয়োজন শুধু বড়দের জন্য নয়, শিশুদের বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। বসুন্ধরা সুপার গলফে তৈরি করা হয়েছে কিডস ক্লাব।
এখানে শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন রাখা হয়েছে। ফলে শিশুদের সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন কিছু শেখারও সুযোগ থাকছে।
শিশুদের জন্য জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থাও রয়েছে। পরিবার চাইলে কিডস ক্লাবকে কেন্দ্র করে জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে পারবে। এতে শিশুদের জন্য আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এখানে শুধু গলফ কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়নি। পরিবারের সব সদস্য যাতে একই জায়গায় সময় কাটাতে পারেন সে বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে বড়রা গলফ খেলতে পারবেন, অন্যদিকে শিশুরা কিডস ক্লাবে নিজেদের পছন্দের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। ফলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কিডস ক্লাবের ধারণাটি শুধু শিশুদের খেলাধুলার জায়গা হিসেবে নয়; এটি বিনোদন, শিক্ষা ও সামাজিকতার একটি মিলনস্থল।
বসুন্ধরা সুপার গলফে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, গলফ বে, ভিআইপি সুইটস, ইনডোর সিমুলেটর ও বিলিয়ার্ড রুমের পাশাপাশি শিশুদের জন্য এই আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে। গলফের সঙ্গে পরিবার ও শিশুদের বিনোদন যুক্ত করাই কিডস ক্লাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলে বা সময় কাটাতে গেলে বাবা-মায়ের ভাবনার শেষ থাকে না। বিভিন্ন স্থানে বাচ্চাদের সামলানোই মুশকিল হয়। বসুন্ধরা সুপার গলফে এক ছাদের নিচেই মিলবে নানা সুযোগ। সেখানে কিডস ক্লাব এক নতুন মাত্রা এনেছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে দারুণসব আয়োজন করে এখানে গড়ে তোলা যাবে একটি কমিউনিটি। মোবাইল ফোন কিংবা ভিডিও গেমের দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে বের করে বাচ্চাদের দেওয়া যাবে দারুণ কিছু সময়। যেখানে তারা নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে সামাজিক বন্ধনে। শহুরে পরিবেশেও ছেলেবেলা হয়ে উঠবে আনন্দমুখর ও উচ্ছল। বসুন্ধরা সুপার গলফে কিডস ক্লাব তাই এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
