গাইবান্ধায় সেই গরুর মাংসে মিলল অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ২৬ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এবার ওই গরুর মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম। একই সময়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, অসুস্থ গরুটি জবাই করার পর মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার ফলে ওই নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম প্রায় পাঁচ মণ ওজনের একটি অসুস্থ গাভি জবাই করেন। পরে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ওই গরুর মাংস কাটায় অংশ নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাংসটি ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। গরু জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের জ্বর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখা দেয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর আরও ১৬ জনের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় ২৬ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়।
এরপর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটি গ্রামের তিনজন, পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২৬ জন, রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের তিনজন, দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের একজন ও সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের একজনসহ মোট ৩৪ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০) গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে। আতঙ্কের মধ্যে স্থানীয় লোকজন ফ্রিজে রাখা ওই গরুর অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেলেও আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইসিডিডিআর,বিতে পাঠানো নমুনার পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। আক্রান্তদের চিকিৎসা আগের মতোই চলবে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
এদিকে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার ঠেকাতে পশুদের টিকাদান শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ২০ হাজার টিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতিতে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
