দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে সোনারগাঁয়ের নদী-খাল
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নদী ও জলপথকে ঘিরেই ঐতিহাসিকভাবে গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জনপদ। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদী-খাল এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, নৌ-যোগাযোগ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু দখল, দূষণ, বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিত স্থাপনার চাপে এসব নদী-খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, শিল্পকারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানি নদী ও খালে পড়ায় পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। আড়াইহাজারের ডাইং কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানি ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ায় সোনারগাঁয়ের প্রভাকরদী থেকে শম্ভুপুরা পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় দূষণের প্রভাব পড়ছে। মেঘনাঘাটের শিল্পকারখানার বর্জ্য মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়ায় মেঘনা সেতু থেকে বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাতেও দূষণের অভিযোগ রয়েছে।
দূষণের কারণে মেঘনা ও মারিখালি নদীর পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি এবং মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। এতে জেলে ও নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি নদীর তীর ও খাল দখলের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছর মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দখল ও বর্জ্যে বিভিন্ন খালও ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগেও।
রঘুবাঙ্গার জেলে দীনা বর্মন বলেন, ‘সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীসহ অনেক খালে দখলদারিত্ব ও বর্জ্য ফেলার কারণে মাছ মরে যাচ্ছে। আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের জীবন-জীবিকা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘সারাদেশে নদী-খাল রক্ষায় সরকার কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধে কাজ করা হচ্ছে।’ সোনারগাঁয়ের ছোট-বড় নদী ও খালগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী-খাল রক্ষায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান, সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত জায়গায় নজরদারি, শিল্পকারখানার বর্জ্য শোধনাগার কার্যকর রাখা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। নদী-খাল রক্ষা করা না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও মানুষের জীবন-জীবিকা।
