তরুণরা পরিবর্তন হলে দেশ পরিবর্তন হবে: ইমদাদুল হক মিলন

অনলাইন ডেস্ক

তরুণরা নিজেদের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রধান ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান কার্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালক জাকারিয়া জামান। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তরুণ সমাজ। তরুণদের চিন্তা, মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে ইতিবাচক কাজে কাজে লাগাতে পারলে সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে তরুণদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে’।

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন শুধু অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা করলে হবে না, পরিবর্তনের শুরুটা নিজেদের থেকেই করতে হবে। একজন তরুণ যদি নিজের চিন্তা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে তার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং একসময় পুরো দেশেও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে’।

বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা, পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকশিত হয়।

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, তরুণদের ভূমিকা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তৌফিক হোসেন বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও কাজের সুযোগ তৈরি করা। আমরা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। নিজেদের জায়গা থেকে ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব’।

বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল মাওয়া লিসা বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ তরুণদের শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয় না, বরং নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হোক এবং দেশের উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে নিজেদের ভূমিকা রাখুক’।

আলোচনা সভায় তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights