দখল-দূষণে মরতে বসেছে রংপুরের নদনদী

নজরুল মৃধা, রংপুর
রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা দিয়ে সাতটি নদনদী প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো ঘাঘট, শ্যামাসুন্দরী, ইছামতী, বুড়াইল, খোকসা, ঘাঘট, আলাইকুমারী। এ সাতটি নদীতেই আছে বিভিন্ন রকম অবৈধ দখল। কোনোটি নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক নেই। শ্যামাসুন্দরীর ১৭০ অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করা হলেও উচ্ছেদ অভিযান থমকে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর পূর্ব প্রান্তে সাতমাথা যাওয়ার পথে পড়ে খোকসা ঘাঘট। এ নদটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও এ নদের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। সাতমাথা থেকে কিছু দূর এগোলে নগরীর পুরাতন শহর বলে খ্যাত মাহিগঞ্জে যাওয়ার পথেই ইছামতী নদী। এটি এখন নদীও না খালও না। নদীর দুই পাশ দখল করে স্থানীয়রা এর দুই পারে গড়ে তুলেছে বসতভিটা। ইছামতীর যেটুকু অস্তিত্ব রয়েছে তাও দখল হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে ভরাট হয়ে গেছে। রংপুর নগরীর সাতমাথা হয়ে দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পার্কের মোড় এলাকায় খোকসার অবস্থান আরও করুণ। এটি নদী বলে চেনাই যায় না। এমনকি সিটি করপোরেশন ড্রেন নির্মাণ করেছে সেই ড্রেনের অর্ধেকই নদীতে। বর্জ্য, বিভিন্ন বাসা বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের ফলে খোকসা পার্কের মোড়ের ওই স্থানে দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, রংপুর জেলায় নদনদীর সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে একটি নদীরও অবস্থাও ভালো নেই। তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া বড় নদনদী হলেও এগুলোর কোনোটিরই স্বাস্থ্য ভালো নয়। বুড়াইল নামে রংপুর জেলায় মোট তিনটি আলাদা আলাদা নদী আছে। ছোট আখিরা, নলেয়া, সোনামতী, কাফ্রিখাল, শালমারা, মরা তিস্তা, ঘিরনই, বুল্লাই, মানাস, বাইশাডারা, ধাইজান, খটখটিয়া নদীর অবস্থাও ভালো নয়। নদীবিষয়ক গবেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, রংপুরের নদীগুলোর পারে অনেক দখলদার আছে। নদীগুলোর যদি এখনই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না যায় তাহলে রংপুর শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে না। এ নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে এ অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ সবকিছুই হুমকির মধ্যে পড়বে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, শ্যামাসুন্দরী খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। খোকসা ঘাঘট নদের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights