চার দশক ফাইলবন্দি দ্বিতীয় শিল্পনগরী

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বগুড়ায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল চার দশকেরও বেশি আগে। ভারী শিল্প স্থাপনের জন্য ১৯৮০ সালে প্রায় সাড়ে ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরের বছরের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএসইসির ভারী শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি শহীদ হওয়ার পর সেই প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ সময় নানা উদ্যোগ, প্রস্তাব ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরও বগুড়ায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার কাজ আজও শুরু হয়নি। বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা যেহেতু এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। সেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা ভারী শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

জানা যায়, বগুড়া সদরের চারমাথা-ছয়পুকুরিয়া এলাকায় ভারী শিল্পের জন্য ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আবাসিক ও চাষযোগ্য জমি এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলোকে একটি নির্ধারিত শিল্প এলাকায় স্থানান্তর করা। ১৯৮১ সালের শুরুতে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে একই এলাকায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নতুন করে উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিসিকের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে দ্বিতীয় শিল্পনগরীতে নতুন করে ১০৪টি শিল্প ইউনিট গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। এসব শিল্প ইউনিট স্থাপিত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। পরিকল্পনা কমিশনে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। ফলে ২০০৫ সালে সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও পরবর্তী বছরগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এরপর ২০১৬ সালের দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে জায়গা খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকায় জমি পরিদর্শন করে শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগও আর বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এভাবে ১৯৮০ সালে জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে ১৯৮১ সালের ভিত্তিপ্রস্তর, ১৯৯৮ সালের নতুন প্রস্তাব, ২০০৫ সালের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০১৬ সালের নতুন জায়গা খোঁজার উদ্যোগ, সব মিলিয়ে চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ২০২৬ সালেও বগুড়ায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিসিক বগুড়ার উপমহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজার রহমান জানান, বগুড়ার উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থানে জমি দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে বিসিকের দ্বিতীয় নগরী গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বর্তমানে বিসিক থেকে সরকার প্রতিবছর ১৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। বগুড়ায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী হলে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights