পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারাল পাকিস্তান। ১১১ রানের জবাবে খেলতে নেমে ১১.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সাহিবজাদা ফারহানের দল। এই হারে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ১৩ ওভারে কমিয়ে আনা হয়েছিল ম্যাচের দৈর্ঘ্য। আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান তোলে।
শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। ওপেনার তানজিদ হাসান ৭ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে শাহিবজাদা ফারহানকে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন। তানজিদ আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে ২ রান করে সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়ে আউট হন তিনি।
পারভেজ হোসেন ইমনকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন আরাফাত মিনহাস। বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার মাত্র ১ রান করে আউট হয়েছেন। মিনহাসের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সীমানার কাছে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে।
সাইফ হাসান ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৯ রানে সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন তিনি। তাতেই পঞ্চাশ রানের আগে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। এই দুজনের জুটিতেই বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায়। হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। হৃদয় সুফিয়ান মুকিমের বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন সাইমকে। এরপর মোসাদ্দেককেও আউট করেন মুকিম। ১১ রান করা মোসাদ্দেক কাভারে ক্যাচ দিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহানকে। ফলে ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষদিকে বাংলাদেশের রান বাড়ান শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেন। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন শেখ মেহেদী।
জবাবে খেলতে নেমে পাকিস্তানও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। প্রথম ওভারেই উইকেট পায় বাংলাদেশ। মেহেদীর বলে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১ রানে আউট হয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। এই ওভারের প্রথম ৪ বলে দুই বাউন্ডারি এনেছিলেন মাজ সাদাকাত। কিন্তু নাসুমের পঞ্চম বলে তিনিও ক্যাচ দিয়েছেন। ১৫ রান করে আউট হন তিনি। বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছে।
চতুর্থ ওভারেও উউকেট পায় মুস্তাফিজ। পরপর দুই বলে ছক্কা, পরের বলেও চার। প্রথম তিন বলে পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের বিরুদ্ধে অসহায়ই লাগছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। কিন্তু শেষ হাসিটা হেসেছেন তিনিই। তার ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন ১২ বলে ২১ রান করা সাইম। এরপর সপ্তম ওভারে উসমান খান ১৪ রানে সাজঘরে ফেরেন।
বোলিংয়েও অনেকটা সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু দশম ওভার করতে এসে ৫ বাউন্ডারিতে ২৩ রান হজম করেন মুস্তাফিজ, দুই ওভারে তিনি দেন ৪১ রান। সেখানেই বাংলাদেশের আশা শেষ হয়ে যায়। আব্দুল সামাদের ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৯ বল আগেই জয় পেয়ে গেছে পাকিস্তান।
