আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নে সাতক্ষীরার দুই তরুণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শিশুদের ‘নোবেল খ্যাত’ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার দুই তরুণ সমাজকর্মী সুদীপ্ত দেবনাথ ও মুশফিক উর রহমান। শিশু সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিক্ষার প্রসারে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ মনোনয়ন পেয়েছেন।
বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা বিশ্বের ২৮০ জন শিশুর নামের তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের সাতক্ষীরার সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭) ও মুশফিক উর রহমানের (১৭) নাম রয়েছে।
সুদীপ্ত ও মুশফিক সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সুদীপ্ত শহরের মাস্টারপাড়ার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথের সন্তান। মুশফিক উর রহমান শহরের কলেজ রোডের মুনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ‘আমাদের সময়’ ও মাছরাঙা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল ও বারছাতুন নেছা লাভলী দম্পতির বড় সন্তান।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা শিশুদের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে।
গত চার বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন সুদীপ্ত ও মুশফিক। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রামীণ ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তারা। তাদের উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয়েছে এবং অনেক পরিবার শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ে হাজারো মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সুদীপ্ত ও মুশফিক। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মশালা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। এসব কার্যক্রমে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে চাই।’
মুশফিক উর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। ভবিষ্যতে শিশুদের অধিকার নিয়ে আরও কাজ করতে চাই। এই মনোনয়ন আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।’
