কাউন্টির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান টাইগার পেসার

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ৯ অক্টোবর থেকে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে নামেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে টাইগাররা এখন দেশটিতে অনুশীলন করছে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলার পর এই টেস্টের দিকে তাকিয়ে আছেন পেসার খালেদ আহমেদ। এই পেসার জানিয়েছেন, তিনি সেখানকার গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের তিনটি ম্যাচে ১৬ উইকেট নেওয়া খালেদ বর্তমানে টেস্ট দলের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, খেলায় পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে তার আরও দু-একদিন সময় লাগবে। এই পেসার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো ছিল। আমি দীর্ঘদিন খেলার বাইরে ছিলাম। এরপর একটা সুযোগ এল এবং আমি কাউন্টিতে খেলার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেখানে যাওয়ার পর শুরুতে ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা একটু কঠিন ছিল। তবে খেলা শুরু করার পর, আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছু ভালোভাবেই হয়েছে। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সব পরিস্থিতির সাথেই মানিয়ে নিতে হয়। ইংল্যান্ড থেকে আসার পর সেখানকার ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিয়েছিলাম; আর এখন দুবাইয়ের গরমের সাথেও মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গরমের কথা মাথায় রাখলে সমস্যা হবে। আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি; আজ বোলিং করছি। গতকাল রানিং করেছি, সব মিলিয়ে প্রায় মানিয়েই নিয়েছি। হয়তো এক-দুদিনের মধ্যেই বোলিংয়ে পুরোপুরি ছন্দ ফিরে পাব।গরম বা ঠান্ডা এসব নিয়ে আমার কোনো অজুহাত নেই। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমি সবসময় মাঠের খেলা নিয়েই ভাবি। সেটাই করার চেষ্টা করছি।

খালেদ জানান, কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা তার জন্য শেখার একটি বড় সুযোগ ছিল। এই পেসার বলেন, ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট খেলা ও বোঝা শুরু করি, তখন স্বপ্ন দেখতাম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক চার দিনের ম্যাচ বা টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার। তাই ইংলিশ ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আমার জন্য দারুণ ছিল। সুযোগটা পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম।

কাউন্টি ক্রিকেটের খেলার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই টাইগার পেসার বলেন, সেখানে যাওয়ার পর প্রথম ম্যাচটি খেলিনি। অধিনায়ক ও কোচরা আমাকে বলেছিলেন নতুন পরিবেশে আসার পর মানিয়ে নেওয়ার একটা বিষয় থাকে। তাই তারা আমাকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছিলেন। শুধু খেলা নয়, ড্রেসিংরুমেও তাদের সাথে দারুণ সময় কেটেছে; তারা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন।

কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে ‘সেকেন্ড একাদশ’-এর চার দিনের ম্যাচ চালু করার জন্য খালেদ বিসিবিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি মনে করেন, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিলে দেশের সামগ্রিক ক্রিকেট ব্যবস্থার উন্নতি হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রথম-শ্রেণীর দলের জন্য ‘ব্যাগি ক্যাপ’ (বিশেষ টুপি) প্রথা চালু করছে। এ কথা শুনে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম। যেহেতু আমরা একটি টেস্ট-খেলুড়ে দেশ, তাই আমাদের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট যদি টেস্ট ক্রিকেটের আদলে আয়োজন করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক-আশাকের মতো বিষয়গুলো খেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ। আমি আশা করি, এই প্রক্রিয়াটি এখন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে আরও নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে। এখানে কোনো খেলোয়াড় যদি চোট পান বা ফর্ম হারিয়ে ফেলেন, তবে তিনি মূল একাদশ থেকে দ্বিতীয় একাদশে গিয়ে খেলতে পারবেন; এতে নিজের ফর্ম ফিরে পেয়ে আবার মূল একাদশে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমি বোর্ডকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে জ্বরের কারণে এশিয়ান গেমসে খেলতে না পারা নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights