সৌদি প্রবাসীদের সুরক্ষায় কার্যকরী কূটনৈতিক উদ্যোগ চায় বায়রা

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১৪ জন নিহত এবং ২৭ জন বাংলাদেশি আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বায়রা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, হামলার পর ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৯টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারেননি। এতে নতুন কর্মীদের পাশাপাশি ছুটিতে দেশে আসা অনেক অভিজ্ঞ প্রবাসী কর্মীও কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। ফলে তাদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বায়রা উল্লেখ করেছে যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং দেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎসগুলোর একটি। এ অবস্থায় আটকে পড়া কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বাড়ানো এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বায়রা জানায়, কুয়েত যুদ্ধ ও কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি। এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্যও মানবিক সহায়তার আর্জি জানিয়েছে বায়রা। তারা দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো যেন অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই যাত্রীদের টিকিট পুনর্নির্ধারণের সুযোগ দেয় অথবা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

বায়রা আরও জানিয়েছে যে, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বায়রা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটের ঝুঁকি কমাতে একটি নির্দিষ্ট শ্রমবাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং সম্প্রসারণে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক আয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তা অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করে বায়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights