অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে হঠাৎ কী হলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
হঠাৎ কী হলো বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ)? নির্বাহী কমিটির তিনজন পদত্যাগ করেছেন। সহসভাপতি পদ থেকে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং সদস্যপদ থেকে সাবেক তারকা ফুটবলার রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ও জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সাব্বির ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি হয়ে বিওএর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৩৪ জনকে নিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটি গঠিত। শোনা যাচ্ছে, পদত্যাগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত বছর ৩০ নভেম্বর বিওএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন কমিটির এক বছর পূর্তির আগেই পদত্যাগ কেন? এটা ব্যক্তিগত নাকি অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা? অন্তর্বর্তী সরকার আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পরিচালক পদ থেকে অনেকে পদত্যাগ করতে থাকেন। প্রথমে বলা হচ্ছিল, ব্যক্তিগত কারণে যে-কেউ পদত্যাগ করতেই পারেন। পরে পদত্যাগকারীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ মিডিয়ার সামনে বিসিবির নির্বাচনে কী অনিয়ম ঘটেছিল তা তুলে ধরেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই নতুন সরকার আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখাইে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে-বিওএ কি সেই বিসিবির পথেই হাঁটছে? সাব্বির ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কথা বললেও ভিতরে নাকি অস্থিরতা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিছুক এক সদস্য জানালেন, ‘লম্বা কমিটি হলেও বিওএ মূলত চার-পাঁচজনের কাছে বন্দি। বলতে পারেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গড়া সার্চ কমিটির লোকদের হাতেই অনেকটা জিম্মি। সরকার বদল হলেও এই ভূত ঘাড় থেকে নামেনি।’
এশিয়ান গেমস শেষের পরই বিওএ নাকি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষ চাচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, অন্যরা নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে। ২০ কোটি টাকা খরচের পরও এশিয়ান গেমসের সাফল্য বলতে এসেছে এক টুকরো তামা। অথচ গেমস শুরুর আগে কমিটির অনেকের মত ছিল, যেসব ডিসিপ্লিনে ভালো করার কোনো সম্ভাবনা নেই তাতে দল না পাঠাতে। কে শোনে কার কথা! বাজেট বাড়াতে ডিসিপ্লিনের সংখ্যা বাড়িয়ে ২২-এ আনা হলো। গেমসে কোথায় কোন খাতে খরচ হয়েছে তার হিসাবটা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে নাকি টালবাহনা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা, গত নভেম্বরে বিওএর যে নির্বাচন হয়েছিল তা অনেকের কাছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ‘আমি ডামি’ নির্বাচনের মতো। সংস্থার গঠনতন্ত্রে আছে সভাপতি হবে শুধু সিলেকশনে। বাকি সব পদে নির্বাচন হতেই হবে। তা কি হয়েছে? দুই উপমহাসচিব বাদে অন্যরা ভোট ছাড়াই জয়ী। যে কর্মকর্তা বিসিবি নির্বাচনে সবার নিচে থাকেন তিনিও কি না বিওএতে বিনা ভোটে জয়ী! যোগ্যতা ও প্রভাব কাকে বলে! অস্থিরতা সবে শুরু। শেষ হয় কোথায় তা বলা মুশকিল।
