দিঘির শহরে দিঘি নেই
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
একসময় সিলেটের সব পাড়া-মহল্লায় দেখা যেত দিঘি। সিলেটকে বলা হতো দিঘির শহর। দিঘির নামানুসারে রয়েছে শহরের অনেক এলাকার নাম। দিঘির নামে নামকরণ হওয়া এলাকাগুলো আছে, বাস্তবে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী দিঘিগুলো। যেমন চারাদিঘির পাড়ে চারাদিঘি নেই। সাগরদিঘির পাড়ে সাগরদিঘি নেই। মাছুদিঘির পাড়ে মাছুদিঘি নেই। রামের দিঘির পাড়ে রামের দিঘি নেই। লালদিঘির পাড়ে লালদিঘি নেই। বেকাদিঘির পাড়ে বেকাদিঘি নেই। এলাকার নামের মধ্যে অদৃশ্য অস্তিত্ব নিয়ে যেন বেঁচে আছে সিলেট নগরীর শত শত দিঘি। দখল আর দূষণে ঐতিহ্যবাহী এসব দিঘির বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে। এখনো যেসব দিঘির অস্তিত্ব টিকে আছে, সেগুলোও দখল আর দূষণের শিকার। দিঘিগুলো ভরাটের কারণে পাড়া-মহল্লার ভিতর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পানি পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরীতে বেড়েছে জলাবদ্ধতাও। স্বস্তির খবর, দীর্ঘদিন থেকে মরতে বসা জলাশয়গুলো উদ্ধারে এবার মনোযোগী হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এই মিশনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তিনটি পুকুর ও দিঘি উদ্ধার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো দিঘি ও পুকুর উদ্ধার ও সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় সিলেট নগরের ভিতরে কয়েক শ পুকুর ও দিঘি ছিল। গোটা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দিঘিগুলোর বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ভরাট হয়ে গেছে। ১৯৯৭ সালে বিশালাকার লালদিঘি ভরাট করে তৎকালীন সিলেট পৌরসভা। এরপর দিঘির জায়গায় কয়েক হাজার দোকানসহ দুটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। চারাদিঘিতে সিসিকের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে স্কুল ও মসজিদ। বেকাদিঘিতে গড়ে উঠেছে সার্কিট হাউস ও জালালাবাদ পার্ক। ধোপাদিঘির একাংশ ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক ও মসজিদ। রেড ক্রিসেন্টও ভরাট করেছে দিঘির একাংশ। ইলেকট্রিক সাপ্লাই দিঘিটি ভরাট করে পিডিবি নির্মাণ করেছে অবকাঠামো। ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় মাছুদিঘি, রামের দিঘিসহ বেশ কয়েকটি দিঘি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনো যেসব দিঘির অস্তিত্ব টিকে আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই দূষণের শিকার। সিসিকের উদ্যোগে কিছু দিঘি উদ্ধার করে বেষ্টনী দেওয়া হলেও দূষণের কারণে সেগুলোর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নগরের ভিতরের দিঘি, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয় রক্ষার মিশনে নেমেছে সিসিক। গত ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইতোমধ্যে তিনটি দিঘি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে খোজারখলা দিঘি, কুমারগাঁও বাসস্টেশনসংলগ্ন দিঘি ও ঘাসিটুলা দিঘি। সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, স্বাধীনতার পর সিলেট নগরীতে দুই শতাধিক বড় বড় পুকুর ছিল। এখন সাকূল্যে ৩৩টি কোনোরকমে টিকে আছে।
