পরিত্যক্ত ঘোষণার ৯ বছর পরও ভবনহীন দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিতে ৩০০ শিশু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন পাননি নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শহরের ওই এলাকার ১১ নম্বর বংশাল বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২ নম্বর বংশাল বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটিকে ২০১৭ সালে অকেজো ঘোষণা করা হলেও জরাজীর্ণ এই একতলা ভবনেই প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৩০০ শিশু।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ কক্ষের একটিমাত্র একতলা ভবনে দুই শিফটে দুটি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু পুরো ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিমে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ভেতরের রডগুলোতে জং ধরেছে। ওপর থেকে ইটের খোয়া ও পলেস্তারা পড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ২০২১ সালে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ভেতরে টিনের সিলিং দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই সিলিংয়ের ওপরও ছাদের ভাঙা অংশ খসে পড়ছে।

এ ছাড়া ভবনের ১০টি জানালার অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, কাঠ ঘুণের পেটে গেছে এবং অনেক জানালা সম্পূর্ণ ভাঙা। কার্নিশের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের মেঝেও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। প্রসাধন কক্ষগুলো জরাজীর্ণ ও অন্ধকার হয়ে থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ে নেই কোনো খেলার মাঠ।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখের সভাপতিত্বে অকেজো ঘোষণা কমিটির সভায় ভবনটিকে অকেজো ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভবনটির করুণ দশার কারণে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে শিক্ষার্থী। শিক্ষকেরা জানান, একসময় একেকটি স্কুলেই প্রতি শিফটে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ত। কিন্তু নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অভিভাবকেরা এখন আর সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চান না। বর্তমানে ১১ নম্বর বংশাল বালক বিদ্যালয়ে চারজন এবং ১২ নম্বর বংশাল বালিকা বিদ্যালয়ে পাঁচজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। দুটি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক তামান্না আলম ও তন্নি পোদ্দার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ টিনের সিলিং দেওয়া পরিত্যক্ত ভবনে বাচ্চাদের নিরাপত্তাহীনতার মুখে ক্লাস নিতে হচ্ছে। ভবন নির্মাণের জন্য একবার মাটি পরীক্ষা করে গেলেও পরে আর কাজ এগোয়নি। আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ভালো না থাকায় মাল্টিমিডিয়াসহ আধুনিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আকুতি, তারা একটি সুন্দর শ্রেণিকক্ষ, ব্যবহারের উপযোগী টয়লেট এবং খেলাধুলার জন্য একটি খেলার মাঠ চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল দুটি সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে স্থানান্তর করা যায়। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে তিন সদস্যের পরিদর্শন টিম কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights