সংঘাতের মধ্যেও সৌদিতে চলছে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আসন্ন এশিয়ান কাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আয়োজক কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
ভেন্যু, সুযোগ-সুবিধা এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবাসহ সাংগঠনিক ও পরিচালনামূলক সব ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়া থেকে আসা অংশগ্রহণকারী দল, দর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশ্বমানের একটি টুর্নামেন্ট উপহার দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে পুরো মহাদেশকে একত্রিত করা।
এর আগে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এশিয়ান কাপের আয়োজক দেশ সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড় ইউনিয়নের প্রধান লি কুন-হো এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাহীনতা এমন বিষয়, যাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আমাদের জাতীয় দলসহ এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমান চলাচল, তেল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় বিদেশিসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়া ১০ জানুয়ারি ইয়েমেনের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। তবে লি কুন-হো বলেন, কেবল তখনই তারা খেলবে যদি পরিস্থিতি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
তিনি বলেন, খেলোয়াড় ও ফুটবল ভক্তদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে কোনো প্রতিযোগিতার মূল্য বেশি হতে পারে না। যদি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা না যায়, তবে টুর্নামেন্টটি আদৌ আয়োজন করা উচিত কি না, সব সম্ভাবনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সোমবার রিয়াদে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল-নাসর এবং উজবেকিস্তানের নেফতচি ফেরগানার মধ্যকার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ বিলম্বিত হয়েছে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স বিভাগ একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এই সপ্তাহে জুরিখে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রয়োজনে এশিয়ান কাপ এক বছর পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে শেখ সালমান বলেন, আমরা নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। এই অঞ্চলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভালো বা খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে, তাই কী ঘটে তা দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, তবে আমরা তা নেব; তবে প্রয়োজনে আমরা টুর্নামেন্টটিকে এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি।
