শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

বাসস

শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি, শূন্যপদ পূরণ, ই-কোর্ট ব্যবস্থা চালু এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রম আদালতে তীব্র মামলাজট সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানে উল্লেখিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ জট নিরসন এখন সময়ের দাবি।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় আয়োজিত শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনবিষয়ক অংশীজন পরামর্শ সভায় ভিডিওকলে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মামলার জট কমাতে শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও শূন্যপদ পূরণ, সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ই-কোর্ট পদ্ধতি চালু, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সভায় উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কার্যকর শ্রম বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, মামলা দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে, নিয়োগকর্তারাও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। তাই মামলাজট কমানো কেবল প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, বরং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।

সভায় শ্রম আদালতের মামলাজটের প্রধান কারণ হিসেবে বিচারকের সংকট, প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা, ত্রিপক্ষীয় বেঞ্চে প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার দুর্বল প্রয়োগ চিহ্নিত করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের সভাপতিত্বে সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আরশাদুল আলম।

সভায় শ্রম আদালতের বিচারক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা শ্রম বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights