ক্রীড়া ইতিহাসে বড় অংশজুড়ে এবিজি স্পোর্টস সিটি
ইকরামউজ্জমান
সময় ও প্রয়োজনের তাগিদে এসব কাঠামোতে বাধ্যতামূলকভাবে যে ধরনের ‘রেনোভেশনের’ প্রয়োজন ছিল, এই কাজটি উপেক্ষিত হয়েছে সব সময় দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া।
খেলাধুলা সংস্কৃতির অংশ। বহু আয়োজনের একটি। ক্রীড়াঙ্গনে আমরা পরিবর্তন চাই।
এর জন্য দরকার সাংস্কৃতিক কাজ। আর এই কাজটি সহজসাধ্য না হলেও অসাধ্য নয়। সবকিছুতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। প্রাইভেট ব্যাবসায়িক গ্রুপ বসুন্ধরা তাদের নিজস্ব আবাসিক এলাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’ নির্মাণ করেছে।
এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের গৌরব ও ইতিবাচক পরিচিতি। বসুন্ধরা প্রমাণ করেছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হয়, যখন দৃঢ় সদিচ্ছা, শক্তি ও আন্তরিকতা কাজ করে। কাজ করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার তাড়না।
দেশে সর্ববৃহৎ ও বহুল আলোচিত করপোরেট গ্রুপ বসুন্ধরা ব্যবসা করার পাশাপাশি (প্রায় চার দশক ধরে) সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অধীনে এবিজি স্পোর্টস সিটি নির্মাণের মাধ্যমে (কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে) ক্রীড়াঙ্গনে ভবিষ্যতের জন্য বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের পথ উন্মুক্ত করেছে। এটি একটি মাইলফলক।

বদলে দিয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কৃতি। ভিন্ন ভিন্ন খেলায় অত্যাধুনিক কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পরিবর্তনের মশাল জ্বালিয়েছে। এতে বেড়েছে ক্রীড়াচর্চা ও বিনোদনের আগ্রহ। ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে তরুণ ও যুবসমাজে জন্ম হয়েছে আস্থার। দেশের সীমানার বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এবিজি স্পোর্টস সিটি আলোচনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। বেড়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তি। আগেই উল্লেখ করেছি, একমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় আর কোনো প্রাইভেট করপোরেট হাউসের এ ধরনের ক্রীড়া স্থাপনা নেই। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য আনন্দের বিষয়। বসুন্ধরা গ্রুপ স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। সক্ষম হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করতে। দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ‘গুড করপোরেট সিটিজেন’ হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পেরেছে। এবিজি স্পোর্টস সিটি একটি ভ্যালু অ্যাডেড ‘ব্র্যান্ড’। তারুণ্যের লাইফস্টাইল। ক্রীড়াঙ্গনে তাদের ফার্স্ট চয়েস। এই স্পোর্টস সিটি সব সময় টানবে। ঢাকার তরুণদের মধ্যে বড় একটি অংশের ভালোবাসার নিকেতন হলো এখন এবিজি স্পোর্টস সিটি। এই চত্বরে আছে খেলার পাশাপাশি বিনোদন।
এবিজি স্পোর্টস সিটি
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঁচবারের বিশ্বকাপ বিজয়ী ব্রাজিল ভারতের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। গত আগস্টে এ উপলক্ষে ব্রাজিল থেকে টেকনিক্যাল একটি টিম এসেছিল আগাম স্বচক্ষে মাঠ ও ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধা দেখতে। এক পর্যায়ে এই দলটি বাংলাদেশে আসে এবং ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। কিংস অ্যারেনা পরিদর্শনের পর টেকনিক্যাল টিমের মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা চিন্তাও করতে পারেননি এবিজি স্পোর্টস সিটিতে কিংস অ্যারেনা মাঠ বিশ্বমানের, প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, খেলোয়াড়দের জিম, রিকভারি সুযোগ-সুবিধা—সবকিছু আন্তর্জাতিক মানের। ব্রাজিল ফুটবল টিমের টেকনিক্যাল পারসনদের এই ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন’ তো শুধু এবিজি স্পোর্টস সিটি পায়নি, বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনও পেয়েছে। দেশের ভালো কিছু দেখতে ও শুনতে সবাই চায়।
কিংস অ্যারেনা অনেক আগে থেকেই ফিফা ও এএফসি কর্তৃক স্বীকৃত। একটি সময় গেছে, যখন বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বের হোম ম্যাচ, এএফসি কাপের ম্যাচ এবং দক্ষিণ এশিয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংস অ্যারেনায় অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়াম তখন আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার জন্য অনুপযোগী ছিল। ভাগ্যিস, কিংস অ্যারেনা ছিল, না হলে তো দেশের বাইরে ছুটে যেতে হতো।
এবিজি স্পোর্টস সিটির ভূমিকা ও অবদান এরই মধ্যে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে বড় অংশজুড়ে স্থান করে নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে ইতিহাসের বইয়ে পাতার সংখ্যা আরো বাড়বে। প্রথম থেকেই গ্রুপের দর্শন ছিল শুধু নিজেরা নয়, ক্রীড়াঙ্গনে অন্য অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে পরিবর্তন ও পৃষ্ঠপোষকতা। ক্রীড়াঙ্গনে তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া। ওরা তো কখনো হার মানে না। ক্রীড়াঙ্গনে আকর্ষণ সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে ক্রীড়াঙ্গনমুখী করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ও কার্যক্রম লক্ষ করে বলতে পারি, সঠিকভাবেই এগিয়ে চলছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেন না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর। তিনি ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে নতুনভাবে সব সময় ভাবেন। নবীন ও তরুণদের চোখে এঁকে দিতে চান স্বপ্নের মায়াবী অঞ্জন। প্রথাগত মানুষের ভিড়ে তিনি অন্য রকম। তাঁর চার পুত্রসন্তান সাদাত সোবহান তানভীর, সাফিয়াত সোবহান সানভীর, সায়েম সোবহান আনভীর ও সাফওয়ান সোবহান তাসভীরের খেলার প্রতি অনুরাগ, ভালোবাসা ও আবেগের বাস্তবায়ন নয়—এটি হলো কোনো ধরনের প্রতিদান আশা না করে নীরবে আধুনিক স্পোর্টস কাঠামো নির্মাণ করে দেশে খেলার চর্চাকে আরো গতিশীল করা। খেলার চর্চাকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। এখানে উল্লেখ্য যে এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর খেলাধুলাকে দেখেন বিশেষ দৃষ্টিতে। তিনি চান ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও চিন্তা-ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন। আর তাহলেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।
এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের মতে, ‘বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় খেলা ফুটবল। কিন্তু আমাদের দেশে কেন জানি খেলাটা অবহেলিত, অথচ এই খেলা নিয়ে কত ছোট দেশ বড় পরিচিতি পেয়েছে। আমাদের এই সুযোগ আছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়েছে, এই একাডেমি থেকে সামনে অনেক ভালো ফুটবলার বের হবে আশা করি। অন্য বাণিজ্যিক গ্রুপগুলোও এভাবে এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন না হয়ে পারে না।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘ক্রিকেটে যেমন একটা জোয়ার এসেছে, সেটা ফুটবলেও আসবে। ধাপে ধাপে সবই হবে। বাংলাদেশও ফুটবলের বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলবে—এই স্বপ্ন দেখি আমি।’ (কালের কণ্ঠ, ১৮ অক্টোবর ২০২১)
বাংলাদেশের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও সব্যসাচী ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেক (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই) লিখেছেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশাল একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি জায়গায় তারা হাত দিয়েছে। তারা স্টেডিয়াম বানিয়েছে, একটি পুরো স্পোর্টস সিটি গড়ে তুলেছে। এখন তো বাংলাদেশের বড় বড় খেলা তাদের মাঠেই হচ্ছে। বসুন্ধরা কিংস নামে যে দলটি তারা এনেছে, সেটি দিয়ে তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এক চমক উপহার দিয়েছে। যেমনটি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ হওয়ার পরে আবাহনী দিয়েছিল। আবাহনীও একটি খুব সুন্দর দল গঠন করে, সেই সঙ্গে তাদের খেলার স্টাইল মিলিয়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল দেশে। বসুন্ধরা কিংসও ঠিক সেভাবেই তাদের পথচলা অব্যাহত রেখেছে। গত কয়েক বছর তো ফুটবলের বেশির ভাগ টুর্নামেন্টেই তারা চ্যাম্পিয়ন। তারপর ক্রিকেটেও তারা (বসুন্ধরা) আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখন তো তারা হকির টার্ফও নিয়ে আসছে। প্রতিটি খেলায় তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথম তারাই প্যাডেল টেনিস এনেছে। নিশ্চয়ই জানেন, পৃথিবীতে দ্রুতগতিতে জনপ্রিয় হতে যাওয়া খেলা এটিই। তাদের ১০-১২টি পিচ বোধ হয়। প্রতি রাতে সেখানে খেলা হয় এবং বাংলাদেশে এটি জনপ্রিয় হচ্ছে। বসুন্ধরা তাই অসাধারণ কাজ করছে ক্রীড়াক্ষেত্রে। আমার মনে হয়, এ ধরনের আরো ব্যবসায়ী গ্রুপ এগিয়ে আসতে পারে। প্রতিটি দেশেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোই দল গড়ে, পৃষ্ঠপোষকতা করে।’ (কালের কণ্ঠ, ১২ জানুয়ারি ২০২৬)
এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ও বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান বলেছেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যার আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর পুরো পরিবারের ক্রীড়াপ্রীতি ও দুর্বলতা সচেতন ক্রীড়ানুরাগী মহলে অজানা নয়। ক্রীড়াঙ্গন ও খেলার চর্চা সব সময় তাঁদের টানে। চেয়ারম্যান স্যারের লক্ষ্য হলো—স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইতিবাচক ‘ব্র্যান্ডিং’ করা। দেশের পরিচিতি বৃদ্ধি। দেশের খেলাধুলার স্বার্থে তাঁর সিদ্ধান্তে ‘না’ শব্দটি কখনো শুনিনি। দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তানরা অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁরা বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়েছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গন কয়েক বছরের মধ্যে এর ফল পাবে। এই স্পোর্টস সিটি নির্মাণে বিভিন্ন খেলার চর্চা শুধু বেগবান হয়নি, নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে। মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য কার্যক্রম থেকে যাতে তরুণসমাজ সরে এসে সুস্থ জীবনে সম্পৃক্ত হতে পারে, সেই ব্যবস্থাও স্পোর্টস সিটিতে আছে।”
৩০০ বিঘা জমিতে স্থাপিত এবিজি স্পোর্টস সিটিতে ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এর পর থেকে সময়ের সঙ্গে এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার গল্প আশাসঞ্চারী।
২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর অনাবাসিক ফুটবল একাডেমির উদ্বোধন করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর ডরমিটরি তৈরির কাজ শেষ হলে আবাসিক একাডেমি চালু করা হবে। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে, যে স্বপ্নের কথা প্রথম থেকেই বলেছেন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং অন্যরা।
ফুটবল ছাড়া ক্রিকেট একাডেমিও কাজ করছে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সফরে এই আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এটি প্রমাণ করে, ফুটবলের মতো ভবিষ্যতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে। এদিকে এবিজি ক্রিকেট নেটওয়ার্ক দল ক্রিকেট লিগে খেলতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছাড়াও প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলাও নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে আনভীর গ্রাউন্ডে।
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশসহ ১১টি দেশ। সাত দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কমব্যাট স্পোর্টস প্রতিযোগিতা জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (জেডএফসি) দ্বিতীয় আসর ‘জেডএফসি-২ : প্রাইড অব বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি মাসেই এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুরু হতে যাচ্ছে ১০টি করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট আরো বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলা হয়েছে। এদিকে হকির অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানোর কাজ প্রায় শেষ। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ, এমনকি টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হবে।
এবিজি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে স্পোর্টস সিটিতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম হবে ‘শাহ আলম ক্রিকেট স্টেডিয়াম’। হকি স্টেডিয়ামের নাম হবে ‘আবদুস সাদেক স্টেডিয়াম’, আর আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংপুলের নাম হবে ‘আবদুস সোবহান সুইমিংপুল’। আবদুস সোবহান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বাবা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। খুব ভালো সাঁতারু ছিলেন। তৎকালীন সময় বেঙ্গল দলের হয়ে কম্পিটিশনে অংশ নিয়েছিলেন। মো. ইমরুল হাসান আরো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দেশের কয়েকটি বনেদি ক্লাব নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী ক্রীড়া বিনোদনের উৎসব আয়োজনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া
