উত্তরাঞ্চলে জাল টাকার কারবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে জাল টাকার কারবার নিয়ে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। এরমধ্যে বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোট তৈরির ঘটনাও ধরা পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারে নতুন টাকা আসার সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক ও কারবারি চক্র। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর সীমান্ত এলাকাগুলোতে জাল টাকার কারবার বেশি হচ্ছে। মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি প্রতারণায় জাল নোটের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে নতুন নোট সম্পর্কে অনেকের ধারণা না থাকায় প্রতারণা বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৪ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এর আগে ৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশের ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট এবং জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে এসআরবি-৫। গত ২৮ জুন রাজশাহীর মোহনপুরে ৯৩ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোটসহ মোস্তফা আলী (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৫। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রাজাপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারের আশা জুয়েলারিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘটা প্রতারণা সম্পর্কে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মোস্তারি জানান, নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নেন। দাম পরিশোধের জন্য তিনি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকান মালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি চেইন নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১৩ অক্টোবর ঢাকার খিলক্ষেত থেকে মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ঢাকার একটি জুয়েলারি দোকানের মালিক মো. রোমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে রাজশাহীর দোকান থেকে নেওয়া চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একই ব্যক্তি ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউমার্কেট এলাকার তামান্না জুয়েলার্স থেকেও ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেন। বগুড়ার চেইনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একই কৌশলে একাধিক শহরে চক্রটি প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।
গত ৮ আগস্ট রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র্যাব-৫ (বর্তমানে এসআরবি)। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট এবং জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসআরবি-৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইসতিয়াক জানান, একটি ভাড়া বাসায় জাল নোট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তারা তদন্ত করছেন। গত ২৮ জুন রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৩ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোট ও ৩৮৭টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নায়েব আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫। এ ঘটনায় আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ জানান, জাল নোট কারবারের মূল উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থের প্রবাহ কতটা-তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
