ইরানে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি এবং রাশিয়া-ইরান কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরান সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সফরকালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা হ্রাসে মস্কোর পক্ষ থেকে গৃহীত নানামুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব দৃঢ় করার বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন লাভরভ ও আরাঘচি। তেহরান ও মস্কোর পারস্পরিক এই সমন্বয় ভবিষ্যতে কিভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও তারা একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন।
এর আগে গত রবিবার বাহরাইনের মানামায় রাশিয়া-জিসিসি (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের নবম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে ল্যাভরভ ইরান কেন্দ্রিক মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরান নেতৃত্বকে নিশানা করে বারবার দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের এই জাতীয় পদ্ধতি শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো সাহায্য করবে না। ল্যাভরভ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, মার্কিন সরকারের এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার পরিপন্থী।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এটি সম্ভবত এমন কোনো পদ্ধতি নয় যা একটি দূরবর্তী অঞ্চলকে সেই ধরনের চুক্তির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে, যা আমার বন্ধু বাহাদুরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জাইয়ানি উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ যেসব চুক্তি পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে রচিত।
সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকট নিয়েও নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন ল্যাভরভ। তিনি উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলো একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ২০১৩ সালের রোডম্যাপ ইয়েমেন সংকটের একটি টেকসই সমাধানের পথ বের করতে অত্যন্ত মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
একই সাথে ল্যাভরভ একটি বিস্তৃত ও সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রতি জোর আহ্বান জানান। এই প্রস্তাবিত নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে পারস্য উপসাগরের সকল দেশ, ইরান, পার্শ্ববর্তী দুই দেশ ইরাক ও জর্ডান এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারকারী বাহ্যিক পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা করতে আরব দেশগুলোর নেওয়া যেকোনো উদ্যোগ ও শান্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে যাবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই রুশ কূটনৈতিক প্রধান।
রাশিয়া-জিসিসি জোটে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান এবং কাতার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
