হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে বলে দাবি আইআরজিসির। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর পরিচালিত একটি নতুন, অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে হরমুজ প্রণালির উপরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর’ ড্রোনটিকে শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে এই বাধা প্রধান ও ধ্বংস করার ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষেবার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযান ও ড্রোনের সংখ্যা অন্তত ৮১টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।

বিরল এই দাপ্তরিক তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বিমানগুলোর মধ্যে এফ-৩৫এ লাইটনিং টু ষ্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ জঙ্গিবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ছিল। এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন হারিয়েছে। এই এমকিউ-৯ রিপারের প্রতিটির মূল্য তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটি ডলার।

এখন আইআরজিসির আরেকটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সত্য হলে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোনের সংখ্যা ৪৬টি হবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী। সূত্র: ডন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights