মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা
মুফতি মো. এহছানুল হক মুজাদ্দেদী
পবিত্র আল কোরআনের আলোকে আমরা জানতে পারি, নবী করিম (সা.)-এর ইহসান তথা দয়া করেছেন, মহান আল্লাহতায়ালা নবীজি (সা.)-কে রাহমাতুল্লিল আলামিন ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, আর আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতস্বরূপ তথা রাহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে প্রেরণ করেছি (সুরা আম্বিয়া-১০৭)। আল্লাহ আরও বলেছেন, নবী করিম (সা.) ইমানদারদের কাছে তাদের নিজেদের জানের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ (সুরা আহজাব-০৬)।
মানুষের মধ্যে মহব্বত তথা ভালোবাসার বিষয়টি সৃষ্টিগত এবং জন্মগত বিষয়। কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি তার জীবনে মহব্বতশূন্য হতে পারে না। প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে আল্লাহতায়ালাকে, তাঁর প্রিয় নবীজি হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-কে। বুখারি শরিফের তরজমাতুল বাবে উল্লেখ রয়েছে হুব্বে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাল ইমান। নবীজি (সা.)-এর প্রেম ইমানের অঙ্গ। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ইমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার কাছে আমি তার পিতা, সন্তানসন্ততি এবং সব মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হব না (বুখারি হাদিস নং-১৪)। সৃষ্টিকুলের মধ্যে শুধু মানুষ নয় পাহাড়ও রসুল (সা.)-কে ভালোবাসত। হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই উহুদ একটি পাহাড়। আমাদের সে ভালোবাসে আমরাও তাকে ভালোবাসি (মুসলিম, হাদিস নং-৩২৩৭)। আমরা জানি, গাছ কথা বলতে পারে না কিন্তু প্রিয় নবীজি (সা.)-কে গাছও সালাম দিয়েছে। এগুলো নবুয়তের দলিল, মোজেজা। হজরত আলি (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে মক্কায় ছিলাম। আমরা তাঁর সঙ্গে মক্কার কোনো এক প্রান্তে বের হলাম, আমরা পাহাড় এবং গাছের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। গাছ এবং পাহাড় অতিক্রম করামাত্রই আমাদের এই বলে সালাম করেছে আসসালামু আলাইকা ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জামে তিরমিজি, হাদিস নং-৩৬২৪)।
লেখক : খতিব, সিদ্দিকে আকবর (রা.) জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
