বড়াইগ্রামে নিহত ১২: মনে করাল ২০১৪ সালের ট্র্যাজেডি
নাটোর প্রতিনিধি
এক যুগ আগে, একই দিনে, সড়ক দুর্ঘটনায় রেকর্ড ৩৭ জন নিহত হয়েছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামে। সেদিন উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
১২ বছর পর সেই ২০ অক্টোবরেই উপজেলাটিতে আবারও ঘটল প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরীফুল হকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রাতে বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে আরপি স্পেশাল একটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে ঝিনাইদহ থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ৯ যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও হাসপাতালে আরও তিন জন নিহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মিলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নাটোরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতার হলেন- ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার বরাতলা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন (৫০), বাসচালক ও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার চায়নাপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০)।
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮), তাসফিয়া খাতুনের বাবা ও আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল হোসেন (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার সালাল মোল্লা (৪৫), আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের রাজ্জাক আলীর ছেলে শাহিন হোসেন (৩৫), ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ আলী (৩০), ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার বাকুমদিয়া গ্রামের শ্রীদ্বারা পরিজনের ছেলে হিমেল পরিজন (৩০), নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে রাসেল (৩৫)।
