পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ গোল হজম, একবারও জালের দেখা পায়নি বাংলাদেশের যুবারা
অনলাইন ডেস্ক
মাঠে নেমেছে পাঁচবার, প্রতিবারই বড় ব্যবধানে হার। প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। উল্টো পাঁচ ম্যাচে নিজেদের জাল থেকে বল কুড়াতে হয়েছে ১৪৬ বার। চীনে চলমান আইএসইএফ অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে উঠে এসেছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের এক করুণ চিত্র।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পাঁচ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল হজমের সংখ্যা যথাক্রমে ২৭, ৩৫, ৩৩, ৪০ ও ১১। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের গোল ১৪৬টি। অথচ পুরো আসরে বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষে একবারও গোল করা সম্ভব হয়নি।
গত ১৯ অক্টোবর চীনের সুচৌ তাইহু এফসি স্টেডিয়ামের ৭ নম্বর মাঠে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের মুখে পড়ে দলটি। চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে ২৭-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশের যুবারা।
প্রথম ম্যাচের ধাক্কা কাটিয়ে পরের খেলায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ২০ অক্টোবর জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দল। বরং প্রথম ম্যাচের চেয়েও বড় ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে। জার্মানির কাছে ৩৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পায় তারা।
এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ অক্টোবর মরক্কোর মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। সুচৌ এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সিটি মাঠে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয় দলটি। মরক্কোর কাছে ৩৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে না পারায় ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়।
গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতার পর স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং সেখানে আরও বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখে পড়ে দলটি। প্রথমে আলজেরিয়ার কাছে ৪০-০ গোলে হারে তারা, যা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
এরপর হাইতির বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশের যুবারা। ওই ম্যাচে ১১-০ গোলে হেরে পাঁচ ম্যাচে শতাধিক গোল হজমের হতাশাজনক পরিসংখ্যান পূর্ণ করে দলটি।
সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। ধারাবাহিক বড় ব্যবধানের এই পরাজয় অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে দলের প্রস্তুতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন আসরে অংশগ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
