শাদাবের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়
অনলাইন ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ওডিআই ট্রাই-সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল পাকিস্তান। এরপর এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন শাদাব খান। তার অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংসে ভর করে ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) লাহোরে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। দলের জয়ে ব্যাট হাতে একাই বড় ভূমিকা রাখেন শাদাব। ৯৬ বলে ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। মাত্র ৪ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ব্যান্টন। তৃতীয় ওভারে জো রুটকে ৫ রানে ফেরান শাহিন। এরপর অষ্টম ওভারের আগে হ্যারি ব্রুক রানআউট হলে মাত্র ১৯ রানেই ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
এমন বিপর্যয়ের পর দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন বেন ডাকেট ও জর্ডান কক্স। তবে তাদের জুটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। দলীয় ৫২ রানে হারিস রউফের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কক্স। তার ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ৬ রান।
এরপর ডাকেটের সঙ্গে জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন স্যাম কারান। দুজনের ব্যাটে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায় ইংলিশ শিবির। ৫২ রান থেকে দলীয় সংগ্রহ ১৪৫-এ নিয়ে যান তারা। পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের এই জুটি ভাঙেন রাজারউল্লাহ। ৫২ বলে ৫টি চারে ৪২ রান করে ফেরেন কারান।
কারান ফিরে গেলেও নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করেন ডাকেট। এক প্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ১১১ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে তার ইনিংসটি ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
দলীয় ১৭৫ রানে উইল জ্যাকসকে ফিরিয়ে দেন রাজারউল্লাহ। এরপর ডাকেটের উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলেন তিনিই। ডাকেট ফেরার পর দলীয় সংগ্রহে আর মাত্র ১২ রান যোগ করতেই লিয়াম ডসনও ফিরে যান। শেষদিকে জেমি ওভারটন ১০ রান করে আউট হলে ২০১ রানে ৯ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনের ব্যাটে কিছুটা গতি পায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ২৮ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। হেনরি ক্রুকম্ব ৮ রান করে শাহিনের চতুর্থ শিকার হলে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৮.৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া আড়াফাত মিনহাস ২৬ রানে ২টি এবং রাজারউল্লাহ ৩৮ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন।
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। গাস অ্যাটকিনসনের বলে ১০ রান করে ফেরেন ফখর জামান। এরপর হেনরি ক্রুকম্বের শিকার হয়ে ৬ রানে বিদায় নেন সাইম আইয়ুব। অ্যাটকিনসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে বাবর আজমও ফিরে গেলে মাত্র ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচে টিকে থাকা। তবে চতুর্থ উইকেটে দ্রুত রান তুলে দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন সাদ বাইগ। ২২ বলে ৭টি চারে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। জেমি ওভারটনের বলে উইল জ্যাকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
এরপর সালমান ও হাসান নেওয়াজ মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ২৮ রান। ৩৩ বলে ১৫ রান করে হাসান ডসনের শিকার হলে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। পরের ওভারেই আড়াফাত মিনহাস ফিরে গেলে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রানে ৬ উইকেট।
সালমান ৪৯ বলে ২৬ রান করে ডসনের বলে আউট হলে পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়ে। এরপর শাহিনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৩১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে জয় থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছিল স্বাগতিকেরা।
রাজারউল্লাহ ১৫ বলে ৮ রান করে উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হলে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট। তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান। হাতে মাত্র একটি উইকেট থাকায় ম্যাচের পাল্লা ইংল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নবম উইকেটের পতনের পর পাকিস্তানের সামনে হার এড়ানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু শাদাব খান এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টে দেন ম্যাচের চিত্র। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করা এই অলরাউন্ডার একদিকে যেমন বাউন্ডারি আদায় করেন, অন্যদিকে স্ট্রাইক ধরে রেখে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
৫২ বলে সাতটি চার ও একটি ছক্কায় অর্ধশতক পূর্ণ করেন শাদাব। এরপরও থামেননি তিনি। ধীরে ধীরে ইনিংসকে বড় করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রানরেটও নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ৯২ বলে ১২টি চার ও চারটি ছক্কায় শতক পূর্ণ করেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।
তবে তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তোলার কাজ বাকি ছিল। শেষ উইকেটে শাদাব ও হারিস রউফের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৮৯ রান। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে হারিস রউফও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৭ রান করেন তিনি। অন্যদিকে শাদাব নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান ১১৩ রানে। ৯৬ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন তিনি।
৪৭.১ ওভারে পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। শেষ উইকেটে এমন লড়াই শুধু ম্যাচের ফলই বদলায়নি, পাকিস্তানকে এনে দিয়েছে স্মরণীয় এক জয়।
ইংল্যান্ডের হয়ে জেমি ওভারটন ৪৩ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। গাস অ্যাটকিনসন ৬২ রানে ২টি এবং লিয়াম ডসন ৩০ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। উইল জ্যাকস ও হেনরি ক্রুকম্ব নেন একটি করে উইকেট।
