দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সেখানে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারকে খাপ খাইয়ে নেওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
ম্যাক্স টুনোন কর্মসংস্থানের গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বনায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের মতো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় ও নীতিগত উদ্যোগ জোরদার করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে আইএলওর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ম্যাক্স টুনোন আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উদ্যোগসমূহের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাথে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ইউনিট হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানান। জিআইইউ ইউনিটে আইএলও কারিগরি পরামর্শক এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত আইএলও কান্ট্রি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
