দলের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন সিমন্স
অনলাইন ডেস্ক
বিসিবি জানায়, সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় সাময়িকভাবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মাসের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জন্ম দেন। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি ড্র করে টাইগাররা। এরপর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছিল শান্তদের।
অনেকের ধারণা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজে পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি তড়িঘড়ি করে আশরাফুলকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে এমন খবরও শোনা যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে বোর্ডের কর্মকর্তারা নতুন ব্যাটিং কোচ নিয়োগের খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সিমন্স বলেন, ম্যাচের আগে এমন বিশৃঙ্খলা কি এবারই প্রথম? প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। বছরের শুরুতে আমরা যে সিরিজগুলো খেলেছি, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসল বিষয় হলো, আমরা সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার মনে হয়, গত তিন-চার দিনে এখানে যারা ছিল, তারা দারুণ কাজ করেছে। তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন পুরো দল একত্রিত হয়েছে। বাইরের ঘটনা কী ঘটছে তা বড় বিষয় নয়। বরং আগামী দুই দিনে দল হিসেবে আমরা প্রস্তুতির জন্য কী করছি, সেটাই আসল।
সিমন্স জোর দিয়ে বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে দল পুরোপুরি মনোযোগী রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। সিরিজের প্রথম টেস্টটি বুধবার মিরপুরে শুরু হবে।
টাইগার কোচ বলেন, আমার মনে হয় সবাই টেস্ট ম্যাচের ওপরই পুরোপুরি মনোযোগী। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচের ক্ষেত্রেও যেমনটা ছিল—সবাই তখন টেস্ট ম্যাচ এবং নিজেদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জটির ওপরই মনোযোগ দিয়েছিল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা সবার মধ্যেই রয়েছে, আর এবারই প্রথম আমাদের সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই আমার বিশ্বাস, সবাই টেস্ট ম্যাচগুলোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ড্র হওয়া টেস্ট ম্যাচটি নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে, যদিও ম্যাচটির শেষ বল পর্যন্ত উভয় দলই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ব্যাটাররা যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন না এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সিমন্স জানান, তারা দলের ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা মেনেই খেলেছেন, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে।
সিমন্স বলেন, আমার মনে হয় না তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ঠিক যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, তারা ঠিক সেভাবেই খেলেছে। উইকেট আমাদের ধারণার চেয়েও ভালো হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিনে উইকেট যতটা খারাপ হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। তিনি আরও বলেন, দিনশেষে আমাদেরই এই টেস্ট ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল। আমরা একটি রান-আউট মিস করেছি, কয়েকটি ক্যাচও হাতছাড়া করেছি। তাই ম্যাচটি আমাদেরই জেতা উচিত ছিল, তবে আমার মনে হয় না যে আমরা ভুল পদ্ধতিতে খেলেছি।
শান্তদের কোচ জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরের সঙ্গে টানা দুবার যুক্ত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। ২০২১ সালে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল, তখনও তিনি দলের প্রধান কোচ ছিলেন। সেই সফরেই চট্টগ্রামে চতুর্থ ইনিংসে কাইল মেয়ার্স ২১০ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন। সিমন্স আশা প্রকাশ করেন, এবারও তিনি বিজয়ী দলের অংশ হতে পারবেন।
