প্রিন্ট ভার্সন খাতুনগঞ্জে ডালের দাম বেড়েছে ৩০-৭৫ শতাংশ
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ডালজাতীয় ভোগ্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে মসুর, মুগ, মটর ও ছোলার দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানিতে ধীরগতির কারণে বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগাম মজুতপ্রবণতা ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ।
খাতুনগঞ্জের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে মোটা মুগ ডাল কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে এর দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মটর ডালের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এক বছর আগে দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। জাতভেদে এক বছরে এর দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। ছোলার দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ১০৫ টাকায়। এক বছর আগে দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ সময়ে ছোলার দাম বেড়েছে ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, মানভেদে মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়। গত বছর একই ডালের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডালজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ক্রাশিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচেও। এ ছাড়া আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় চাহিদার তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানি কমেছে।
বাজারে সরবরাহ কম থাকার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আগাম মজুতপ্রবণতা, সার্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ এবং টাকার অবমূল্যায়নও দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ডাল ও ছোলার দাম ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে বর্তমানে মসুর ডাল প্রতি পাউন্ড ০.২৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা মেট্রিক টনপ্রতি প্রায় ৫৭০ থেকে ৬০০ ডলারের সমান। এক বছর আগে এর দাম টনপ্রতি ৫০০ ডলারের নিচে ছিল। মুগ ডালের আন্তর্জাতিক বাজারও চড়া। বর্তমানে ভারতে প্রতি মেট্রিক টন মুগ ডালের দাম ১ হাজার ৬৬ ডলার। চীনে তা ১ হাজার ৪০৫ থেকে ১ হাজার ৫০৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত এক বছরে বিশ্ববাজারে মুগ ডালের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাবুলি ছোলা প্রতি পাউন্ড ০.২৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলীয় ছোলার রপ্তানি মূল্যও টনপ্রতি ৬৭০ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগে এ দাম তুলনামূলকভাবে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও পড়ছে দেশের পাইকারি বাজারে। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের বুকিং দাম বেড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ অন্যান্য খরচ বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে বহুলাংশে। এসব বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতেই পণ্যের দাম বেড়েছে।
