পাহাড়ের মাটি যায় ইটভাটায়

শরতের শেষে প্রকৃতিতে নেমে আসছে শুষ্ক মৌসুম। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই পাঁচ মাসই মূলত ইট তৈরির মৌসুম। এই মৌসুমকে সামনে রেখে আগেভাগে তৎপর হয়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা। ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কৃষিজমির টপসয়েল, পাহাড়ের মাটি এবং ইট পোড়াতে কাঠ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশ ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন পরিবেশবিদরা। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে বেশ কিছু ইটভাটাকে চলতি মৌসুমে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, তাই এখন দেখার বিষয়। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, এক দশক আগে ১২০ ফুট চিমনিবিশিষ্ট সনাতন প্রযুক্তির সব ইটভাটাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি কাঠ দিয়ে পোড়ানো ইটের বদলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার, ব্লক ইট তৈরি ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করে আসছে সরকার। কিন্তু এত বছরেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে চিমনি ভেঙে দেওয়া, বন্ধের নোটিস দিলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি মানা হয় না। এ ছাড়াও আবাসিক, পাহাড়ি, বনভূমি, জলাভূমি, কৃষিজমির নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও আদতে এসব এলাকাতেও ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিভাগের ১১ জেলায় মোট ১ হাজার ৫৩৬টি ইটভাটার ৬৩.৫ শতাংশ বা ৯৭৬টি ইটভাটাই অবৈধ। ফলে জেলাগুলোতে বৈধ ইটভাটার তুলনায় অবৈধের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় কোনো ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও সেখানে পরিচালিত হচ্ছে ১৪২টি ভাটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights