দুর্বল অর্থনীতি ও সামরিক প্রভাব: দ্বিমুখী সংকটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি
অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর নির্ভরশীল। দেশটি একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে চীনের সাথেও সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। ‘স্ট্র্যাটনিউজ গ্লোবাল’-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে পাকিস্তানের এই অবস্থানকে ‘পরস্পরবিরোধী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তান, কাশ্মীর ও ইরানের মতো আঞ্চলিক ইস্যুতেও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।
মূলত ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের শত্রুতার কারণেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি এমন রূপ নিয়েছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় তারা আঞ্চলিক ও পরাশক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে।
এছাড়া, চরম অর্থনৈতিক সংকটও এই নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক সাহায্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ এবং চীনের বড় বিনিয়োগের ওপর দেশটিকে মারাত্মকভাবে নির্ভর করতে হয়।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব বিদেশি সাহায্য দিয়ে সাময়িক বিপদ কাটলেও পাকিস্তানের অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলো থেকেই যাচ্ছে। উল্টো, এসব সাহায্য পাওয়ার শর্ত হিসেবে বড় দেশগুলোর স্বার্থের সাথে তাল মিলিয়ে পাকিস্তানকে নিজেদের নীতি বদলাতে হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে সেনাবাহিনী ও আমলাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক সরকারের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে, যা দেশের ভেতরের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও জটিল করে তোলে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানকে নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের পুরোপুরি অনুগত বলা কঠিন। তবে দুর্বল অর্থনীতি, নিরাপত্তার অভাব এবং বড় দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছে দেশটি।
