দিনাজপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি বেদখলের অভিযোগ, উদ্ধারে আশ্বাস প্রশাসনের
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নির্ধারিত জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক পরিমাপে সরকারি জমির একটি অংশ স্থানীয়দের দখলে থাকার বিষয়টি উঠে এলেও তা এখনো উদ্ধার হয়নি। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সম্পত্তি সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনার ভরসা ছিল এই কেন্দ্রটি। বর্তমানে সেখানে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ চলছে। তবে কেন্দ্রের পূর্ব পাশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরকারি জমিতে চলে এসেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
हाल ही में কাহারোল উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে জমি পরিমাপ করা হয়। ৫০ শতক মোট জমির মধ্যে প্রাথমিক পরিমাপে প্রায় ৩৭ শতক কেন্দ্রের দখলে রয়েছে। বাকি প্রায় ১৩ শতক জমি স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ও তাঁর ভাই আফতাব উদ্দিনের স্থাপনার আওতায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া অভিযুক্তদের পরিবারের কিছু সদস্য ও আত্মীয়স্বজন এই হাসপাতালেই কর্মরত থাকায় তারা হাসপাতালের স্বার্থ রক্ষায় উদাসীন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সার্ভেয়ার আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক পরিমাপে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত জমির চেয়ে অতিরিক্ত অংশ দুই ভাইয়ের দখলে থাকার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এসংক্রান্ত হিসাব ও খসড়া নকশা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে আফতাব উদ্দিনের ছেলে খুরশেদ আলম বলেন, পরিমাপ করেই ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পরিমাপে কিছু অংশ হাসপাতালের জমিতে পড়ার বিষয়টি জানার পর তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমি ছাড়তে বললে তাঁরা তা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবেন।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, প্রাথমিক পরিমাপে অতিরিক্ত জমি দখলের বিষয়টি সামনে এসেছে। দ্রুত বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা গেলে কেন্দ্রের ৫০ শতক জমি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত রায় বলেন, পূর্ব পাশে দেয়াল না থাকায় পার্শ্ববর্তী দুই ভাইয়ের ব্যবহৃত জায়গায় কেন্দ্রের প্রায় ১২-১৩ শতক জমি রয়েছে বলে প্রাথমিক পরিমাপে জানা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দেয়াল নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দিনাজপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এ টি এম নজমুল হুদা বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত কারও পরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত জমি উদ্ধার ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।
