আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজিরের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তিনজন সাক্ষীকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জেরা করেননি। অন্য আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। এছাড়া মামলার আসামি রাজীব ভট্টাচার্য আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই সাক্ষীকে জেরা করার কথা আদালতকে জানিয়েছেন। এর আগে তিনি নিজেই আরও দুই সাক্ষীকে জেরা করেছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে সরাসরি হাজির না করে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩০ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত এলাকার বাইরে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টারের গলির ভেতরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ আগস্ট অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে আদালত সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিচার শুরু হয়। এজাহারভুক্ত তিনজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে, তদন্তে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
