দালালের খপ্পরে কুমেক হাসপাতাল
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল। এই হাসপাতাল ঘিরে একটি অ্যাম্বুলেন্স দালাল চক্র চক্রটি প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও এসআরবি এই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও তারা দমে যায়নি। প্রতিদিন শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স দালাল চক্রের কাছে জিম্মি থাকেন হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও তাদের ভয়ে তটস্থ থাকেন।
অবস্থা জানতে কয়েকদিন সরেজমিন যাওয়া হয় কুমেকে। এর মধ্যে দুই দিন আগে একজন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বাবা বয়স্ক মানুষ। হাসপাতালের ফটকে আসতেই কয়েকজন কোলে তুলে সিঁড়ি বেয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়ে যান। বেড ঠিক করে দেন। ওষুধ লাগলে তা নিয়ে আসছেন। খাবার কিনে এনে দেন। প্রথমে ভেবেছি হাসপাতালের লোক। তাদের সহযোগিতা দেখে আমরা খুশি হই। পরে বুঝতে পারি তারা দালাল। ১ হাজার টাকার ওষুধ এনে ৫ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেন। তাদের পছন্দের অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে হয়। ৩ হাজার টাকার ভাড়া ১০ হাজার টাকায় ঠিক করেন। তাদের কথার বাইরে গেলে তেড়ে আসেন।
স্থানীয়দের মতে, দালালদের অধিকাংশের বাড়ি নগরীর মুরাদপুরে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- চর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্থার আল আমিন, মুরাদপুরের টুটুল, কাউসার, সোহেল, রাকিব, আকাশ, জহির, সুমন, জিতু ও লুলু, ঢুলীপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম, নুরপুরের দুলাল। হাসপাতালের আনসার সদস্যদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তবে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
এদের ব্যাপারে কথা বলতে কুমেক হাসপাতাল প্রশাসনকে জানালে তারা বলেন, ১১ দালালকে গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরোজ কোরাইশি দৃপ্তের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার ও ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে তারা ফের দালালি করেন। তাদের দাবি হাসপাতালের বাইরে তারা দালালি করেন। কুমিল্লা এসআরবি ১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, এই মেডিকেল কলেজের ওয়ার্ডবয় থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক পর্যন্ত অনেকে দালালি কার্যক্রমে জড়িত। তাদের হাতে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তার স্বজন চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছেন। মেডিকেল কলেজের দালাল শূন্যের কোটায় আনতে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় ও রোগীদের সূত্র আরও জানায়, দিনে ও রাতে বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে এলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রোগী মারা গেলেও সেই অ্যাম্বুলেন্স চালককে নিতে দেওয়া হয় না। ৩ হাজার ভাড়ার স্থলে ৮-১০ হাজার আদায় করা হয়। আপত্তি জানালে রোগী, স্বজন ও চালক সবাইকে মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমরাও চাই রোগীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছি। কুমিল্লা জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নেতারা এ নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে কয়েকজন চালক বলেন, দালালরা কুমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসকে তাদের বাড়ি ঘর বানিয়ে রেখেছে। বাইরের কেউ সেখান থেকে ভাড়া নিতে পারে না। ভাড়া নিয়ে গেলেও হয়রানির স্বীকার হতে হয়। উল্লেখ্য এখানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া ভর্তি থাকেন প্রায় ১৫০০ জন রোগী। তাদের সঙ্গে আসেন আরও ৫ হাজার স্বজন। তাদের অধিকাংশ আসেন বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর গ্রাম থেকে।
