বাইক রাইডিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নারী
সকালের আলো ফোটার আগেই দিনের প্রস্তুতি শুরু করেন রত্না বেগম। এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গন্তব্যের উদ্দেশে। চট্টগ্রামের হালি শহরে কাজের জন্য তাঁকে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ। একটি এনজিওতে কালেকশন বিভাগে আছেন রত্না বেগম। মোটরসাইকেল তাঁর কাছে নিছক শখের বাহন নয়, জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে চলার সঙ্গী। রাজধানী ঢাকার আরেক নারী বাইকার সামিরা বারি। কাজ করছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স বিএসসিতে ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজের জন্য আমাকে বের হতেই হয় এবং মিটিং থাকে, ভিজিট থাকে। এগুলোর জন্য আমাকে প্রতিনিয়ত প্রায় তিন-চার ঘণ্টা বাইক রাইড করতেই হয়। বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আমি যাই। প্রথমদিকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিটা অন্যরকম ছিল। নারীরা বাইক চালাবেন-বিষয়টা তারা সহজে নিতে পারতেন না। আশপাশের মানুষ অনেক সময়ই বাজে কথা বলতেন। রিকশাওয়ালা, সিএনজিওয়ালা বাজে আচরণ বেশি করতেন। তবে এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আগের মতো খারাপ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কমে এসেছে।’ নারী বাইক রাইডার রত্না বেগম বলেন, ‘অনেকেই বোঝানোর চেষ্টা করতেন মেয়েরা বাইক চালায় না। সাধারণ মানুষের ভিতরেও এ ধরনের একটা ধারণা আছে যে, মেয়েরা বাইক চালাতে পারেন না বা তাঁরা দক্ষ নন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন প্রচুর লেডি বাইকার আছেন, যাঁরা নিয়মিত বাইক চালিয়ে অফিস করছেন। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ করছেন।’ এ নারী বাইক রাইডার বলেন, ‘আমি ঘরের বাজার করতেও বাইক নিয়ে যাই। এখন দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন হয়েছে।’ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি বলেন, ‘সাংবাদিকতা পেশায় বাইক খুবই প্রয়োজনীয় বাহন। তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই শখ করে বাইক চালানো শুরু করি। দাপিয়ে বেড়িয়েছি পুরো শহর। তখন রাস্তাঘাটে অনেক বুলিংয়ের শিকার হতাম। এখন পেশাগত জীবনে এসেও বাইক চালাই। তবে এখন অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তবে এখনো রাস্তাঘাটে অনেক নেতিবাচক কথাবার্তা শুনতে হয় বাইক চালানোর সময়।’ ঢাকার পাশাপাশি জেলা শহর ও মফস্বলেও নারী বাইকারদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায়, নারী বাইকারদের সরব উপস্থিতি। যশোরে চাকরিজীবী ও উদ্যোক্তা জেসমিন রোজ নিজে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি অন্য নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ফেসবুকে তিনি এখন একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। বরিশালেও নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার চিত্র উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সেখানে নারী প্রশিক্ষক সুমনা পারভিনের উদ্যোগে বহু নারী বাইক চালানো শিখেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অনেকে নিজেদের দৈনন্দিন কাজেও মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন।
