স্থানীয় ভোটেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়ার সাম্প্রতিক উপনির্বাচন দেশের সামগ্রিক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী দিনে দেশে কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাগুরা উপনির্বাচনের মতো অতীতে সংঘটিত নানান বিতর্কিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকভাবে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের এ প্রচেষ্টা সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই চাওয়া-আসন্ন স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনে যাতে এ নিরপেক্ষতা ও সহাবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ ভোটারের এ আসনে ১৮৫ কেন্দ্রে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বর্তমান সরকারের সময় এটি দ্বিতীয় উপনির্বাচন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আমেজ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ছিল বিশেষ। এখানে পারিবারিক ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়া স্বাভাবিক হলেও, নির্বাচনগুলোয় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। তবে একটি বা দুটি উপনির্বাচন দেখে সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন। আমরা অতীতের মতো নির্বাচন আর চাই না; আগামীতে প্রতিটি নির্বাচনই হতে হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশও সুশীল সমাজের দৃষ্টি কেড়েছে। জয়ের পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন পরাজিত জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসভবনে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি ভোট গ্রহণকালীন কিছু অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বিরোধী পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে মতপার্থক্য থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান দেলাওয়ার হোসেনও। স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক ও সুজন সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, ‘শান্তিময় ভোট গ্রহণ ইতিবাচক হলেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই একটি সফল নির্বাচনের আসল মাপকাঠি। পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যকার সাম্প্রতিক সৌজন্যমূলক আচরণ রাজনৈতিক সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।’ শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোছা জিন্নাতুন নাহার বলেন, ‘নতুন জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই নির্বাচনের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।’ নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রিন্ট ভার্সন
স্থানীয় ভোটেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা

ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়ার সাম্প্রতিক উপনির্বাচন দেশের সামগ্রিক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী দিনে দেশে কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাগুরা উপনির্বাচনের মতো অতীতে সংঘটিত নানান বিতর্কিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকভাবে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের এ প্রচেষ্টা সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই চাওয়া-আসন্ন স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনে যাতে এ নিরপেক্ষতা ও সহাবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ ভোটারের এ আসনে ১৮৫ কেন্দ্রে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বর্তমান সরকারের সময় এটি দ্বিতীয় উপনির্বাচন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আমেজ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ছিল বিশেষ। এখানে পারিবারিক ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়া স্বাভাবিক হলেও, নির্বাচনগুলোয় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। তবে একটি বা দুটি উপনির্বাচন দেখে সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন। আমরা অতীতের মতো নির্বাচন আর চাই না; আগামীতে প্রতিটি নির্বাচনই হতে হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশও সুশীল সমাজের দৃষ্টি কেড়েছে। জয়ের পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন পরাজিত জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাসভবনে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি ভোট গ্রহণকালীন কিছু অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বিরোধী পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে মতপার্থক্য থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান দেলাওয়ার হোসেনও। স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক ও সুজন সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, ‘শান্তিময় ভোট গ্রহণ ইতিবাচক হলেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই একটি সফল নির্বাচনের আসল মাপকাঠি। পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যকার সাম্প্রতিক সৌজন্যমূলক আচরণ রাজনৈতিক সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।’ শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোছা জিন্নাতুন নাহার বলেন, ‘নতুন জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই নির্বাচনের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights