থানায় যেতে বাধা দিয়ে নিজে সালিশ! কাহারলের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার গুঞ্জন

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের কাহারল উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার গুঞ্জন উঠেছে এলাকায়, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (দুপুরে) উপজেলার ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পরমেশপুর গ্রামের পরিমল শীলের ১৪ বছরের কন্যা ও নাবালিকা তাপসী শীলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন একই এলাকার ৬০ বছর বয়সী নাড়ু সাহা শীল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত নাড়ু সাহা শীলের স্ত্রী তিন বছর আগে মারা গেছেন এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা পরিমল শীল অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় যেতে বাধা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিজে বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বাবুল পলাতক নাড়ু সাহা শীলের দুই ছেলে ও পরিবারের লোকজনদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা বা মীমাংসা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর মাঝে গুঞ্জন রয়েছে।
পরমেশপুর এলাকার সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাড়ু সাহা শীল পলাতক রয়েছেন এবং গ্রামবাসী বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। তবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মীমাংসার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত নাড়ু সাহা শীলের দুই ছেলে কাজল সাহা শীল ও বাবু সাহা শীল জানান, ঘটনার পর থেকেই তাদের পিতা পলাতক আছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শ্লীলতাহানির বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তারা স্বীকার করলেও টাকার বিনিময়ে মীমাংসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৈঠকে মীমাংসা হয়েছে, তবে কোনো টাকার বিনিময়ে নয়।
এ বিষয়ে ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বাবুল সালিশ বা মীমাংসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং এমনিতে বসেছিলাম মাত্র, কোনো মীমাংসা এখনো হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু বা নারী নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা কিংবা শ্লীলতাহানির মতো অপরাধগুলো ফৌজদারি অপরাধ এবং জামিন অযোগ্য। এ ধরনের গুরুতর অপরাধ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনায় কেবল পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
আইন অমান্য করে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় মীমাংসার চেষ্টা করা নিয়ে পুরো ইউনিয়নে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights