ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা স্বামীর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। এতে ইখতারা সরকার (৩০) নামে এক গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
শনিবার ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ইখতারা সরকার ওই এলাকার ঈদন সরকারের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পারিবারিক ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে সংসারে নিত্য কলহ দেখা দিত এবং তিনি প্রায়ই স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দেড় মাস আগে ইখতারা তাঁর দুই বছরের ছোট ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন।
গত শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিয়ে যেতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। ওই সময় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরদিন শনিবার ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে সুযোগ বুঝে জাহাঙ্গীর ঘরে ঢোকেন। এ সময় বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ইখতারার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
