উসকানিতে পা না দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিকনেতা বাবুল আখতারের

অনলাইন ডেস্ক

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার মধ্যে শ্রমিকদের উসকানিতে পা না দিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব মজুরি বোর্ডের প্রথম সভাতেই তুলে ধরা হবে। এ জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে। কোনো ধরনের উসকানি বা প্রলোভনে পা দিয়ে শিল্পকারখানার ক্ষতি করা যাবে না।

সোমবার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাবুল আখতার বলেন, এরই মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। শিগগিরই বোর্ডের সভা হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মাসে ২৭ হাজার ৫০০, ৩০ হাজার, ৩২ হাজার ও ৩৭ হাজার টাকা এবং ৩০০ ও ২৬০ ডলারের মতো নানা প্রস্তাব এসেছে। আগামীকাল শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোটের বৈঠকে আলোচনা করে মজুরি বোর্ডে দেওয়ার জন্য একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

শিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করতে চান। কিন্তু বহিরাগতরা ঢিল ছুড়ে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য করছেন। এতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছেন। তাদের সঙ্গে বকেয়া মজুরি না পাওয়া শ্রমিক, হকার, উচ্ছেদের শিকার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের লোকজনও যুক্ত হচ্ছেন।

বাবুল আখতার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া বাকিরা বহিরাগত। তবে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন শ্রমিক নেতার মুক্তি দাবি করেন তিনি। তাদের যেন হয়রানি করা না হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা না হয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা প্রলোভনে পা দিয়ে শিল্পকারখানার ক্ষতি করা যাবে না। শ্রমিকদের স্বার্থেই এই শিল্প টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। শ্রমিক সংগঠনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘটের ডাক দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো শ্রমিক অন্যায় বা অপরাধে জড়িত হলে ও বিপদে পড়লে শ্রমিক ফেডারেশনগুলো তাদের পাশে থাকবে না।

মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর বর্তমান মজুরি কাঠামোর তিন বছর মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন মজুরি নিয়ে সমাধানে পৌঁছানোর আশা করেন তিনি।

আগামীকাল থেকেই শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবুল আখতার বলেন, তারা আশা করছেন শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন। অতীতে বহিরাগতদের ইন্ধন ও অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা হলে আন্দোলন থেমে গিয়ে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কয়েকটি কারখানার আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান বাবুল আখতার। যেসব কারখানার শ্রমিকরা কাজ করতে চান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ যেন ঢিল ছুড়ে কারখানায় ভাঙচুর করতে না পারে কিংবা গেট ভেঙে শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights