নিরাপদ রক্ত পরীক্ষার গোড়ায় গলদ

জয়শ্রী ভাদুড়ী

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনে হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস-এই পাঁচটি টেস্ট বাধ্যতামূলকভাবে করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এসব টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন কিট কেনার সামর্থ্য নেই দেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের। তদারকি না থাকায় অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকে মানহীন ডিভাইসে চলছে পরীক্ষা। খরচ কমাতে গিয়ে ম্যালেরিয়া টেস্ট কিট কেনে না অধিকাংশ হাসপাতাল। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, বাড়ছে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়।

এরকম পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ এক ফোঁটা মানবিকতা। রক্ত দিন, জীবন বাঁচান’। নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অনুযায়ী, একটি ব্লাড ব্যাংক তার সর্বমোট আয়ের ৪৫ শতাংশ কেনাকাটার কাজে ব্যয় করতে পারবে। রক্ত পরিসঞ্চালন তহবিল থেকে কেনাকাটার জন্য ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আইনে। অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই। তাই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের নিজস্ব আয় থেকে কেনা ছাড়া উপায় নেই। অথচ স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে অতীতের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছে সরকার। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরীক্ষার উপকরণ বরাদ্দ না এলে মানসম্মত রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যমান রক্ত পরিসঞ্চালন আইন ও বিধিমালার আওতায় সেবামূল্য থেকে ব্যয়ের যে সীমা নির্ধারিত রয়েছে, তা দিয়ে বর্তমান চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বিদ্যমান আর্থিক বিধান ও অডিটসংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ২০২২ সালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্লাড গ্রুপিংয়ের জন্য নেওয়া যাবে ৩৫০ টাকা, এইচআইভি টেস্ট ফি ৪০০ টাকা, সিফিলিস টেস্ট ৪০০ টাকা, সিফিলিস র‌্যাপিড টেস্ট ১০০ টাকা, ম্যালেরিয়া র‌্যাপিড টেস্ট ২০০ টাকা, অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং ১ হাজার ৫০০ টাকা। এভাবে টেস্টগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের রক্ত গ্রুপিং বিনামূল্যে করতে হয়। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এসব টেস্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ রক্ত পরিসঞ্চালন তহবিল নামে পরিচিত। এই তহবিলের অর্থের ৪৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে কেনাকাটায়।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনে জোর দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি হাসপাতলগুলোর বাজেট বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাবতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার কিট, ব্লাড ব্যাগের মান নিয়ন্ত্রণে তদারকি জোরদার করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights