ইরান যুদ্ধের অবসান চান শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্জিত সাফল্যের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া যেতে পারে।

এরইমধ্যে কিছু রিপাবলিকানও যুদ্ধ বন্ধ করার এই উদ্যোগে তার দলে যোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ডেমোক্র্যাটিক সিনেটোরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটি’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসার পরপরই শুমারের এই মন্তব্য এল। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাদের সঙ্গে আরও সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের পথ প্রশস্ত হলো।

সংবাদ সম্মেলনে এই ডেমোক্র্যাটিক নেতা বলেন, আমেরিকান ভোটাররা চান ডেমোক্র্যাটরা যেন ‘দেশে ও বিদেশে ট্রাম্পের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ওপর লাগাম টেনে ধরেন’। তিনি বলেন, ইরানে আমরা ঠিক কীসের জন্য লড়াই করছি, তা আমেরিকান জনগণ জানেই না। আমরা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাব।

শুমার জানান, সরকারি ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের যে কর্তৃত্ব রয়েছে, তা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে সীমিত করা সম্ভব। তিনি একে ‘অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে অভিহিত করেন—যা এমন কোনো প্রেসিডেন্টকে নিবৃত্ত করার উপায় হতে পারে, যিনি আমেরিকান জনগণের সম্মতি ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করেন।

সরকারি অর্থায়নের ওপর ডেমোক্র্যাটিক দলের বর্ধিত প্রভাব আইনপ্রণেতাদের হাতে এমন এক বাড়তি ক্ষমতা তুলে দিতে পারে, যা সামরিক ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর চাক শুমার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের অবসান হতেই হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যখনই ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের ইচ্ছা বা আইনকে উপেক্ষা করবেন, আমরা তদন্ত শুরু করব, তাকে আদালতে নিয়ে যাব এবং আইনি বেড়াজালে জড়িয়ে ফেলব। ট্রাম্পের অনুগত সিনেটের দিন শেষ হয়ে গেছে।

শুমার ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত সাতটি আসন জয় করার পর শুমার এ কথা বলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এবং ‘রাজা হতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ প্রেসিডেন্ট। একদিকে ট্রাম্প যখন শেয়ার বাজারে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ (গোপন তথ্য ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন) করছেন, তখন সাধারণ আমেরিকানদের সুপারমার্কেটে কেনাকাটার সময় খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এটি মেনে নেওয়া যায় না।

সূত্র: আলজাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights