সিরিয়ার সঙ্গে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি সই, ৪০.৩ কোটি ডলার ঋণের সমঝোতা

সিরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি, আবাসন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সমঝোতা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিটি এবারের সমঝোতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির পক্ষ থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রস্তাবিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে সিরিয়ার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানোর কয়েক দিন পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। গত শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা ডায়ালগে তিনি জানিয়েছিলেন, কথিত ‘মক্কা জোটে’ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে, সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, সিরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ছয়টি চুক্তির আওতায় সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি সহজ শর্তে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।

এই অর্থের মধ্যে ১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে। আবাসিক ভবন মেরামতে দেওয়া হবে ৬ কোটি ডলার। বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আলেপ্পোর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনর্বাসনে ৯ কোটি ডলার এবং দামেস্ক ও ইদলিবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা উন্নয়নে ৩ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্প খাতে সহযোগিতার জন্য দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও আরও দুটি চুক্তি হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিয়াদে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন।

সিরীয় রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ কাসেম আলের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে আল-শারার দ্বিতীয় রিয়াদ সফর মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় সিরিয়ার একটি কার্যকর প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকেই সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব দেশটির অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর রিয়াদে দুই নেতা বৈঠক করেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছিল, ওই বৈঠকে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণসহ সামগ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights