উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলায় নাবিক নিহত
অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি তেলের ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, এই অঞ্চলের কৌশলগত পরিস্থিতি ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনকে সতর্কবার্তা দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ইরান।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে গ্রিসের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভেলোস ট্যাংকার্স শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের জাহাজ ‘এমটি ভেলোস’ কোনো পণ্য ছাড়াই বাহরাইনের দিকে যাওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার হামলার শিকার হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর প্রথমে জাহাজের এক নাবিক নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়। পরে জাহাজের ভেতর থেকে তাকে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান। নাবিকের মৃত্যুর এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করেছে। ইরানের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আল-সারি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পুতিনকে দেওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার দুটি দিক রয়েছে—রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বার্তার মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব মজবুত করা এবং আলোচনার টেবিলে তাদের সমর্থন আদায় করা। ইরান চায় রাশিয়া তাদের শক্ত সমর্থন দিক। এটি ওয়াশিংটনের প্রতি একটি শক্তিশালী ও কৌশলগত মিত্রের তরফ থেকে সতর্কবার্তাও বটে।
প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে মোহসেন রেজাইকে বেছে নেওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আল-সারি জানান, তার মতো একজন নিরাপত্তা ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর মানে হলো রাজনৈতিক বার্তাটি ব্যাপকভাবে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। ইরান চায় রাশিয়া এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করুক এবং নিজেদের শক্তি ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিক।
অর্থনৈতিক দিক সম্পর্কে আল-সারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নৌ অবরোধের কারণে ইরান বর্তমানে দমবন্ধ করা অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস, তেল ও এ-সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
