লাঠির লড়াই দেখতে মাগুরায় হাজারো মানুষের ভিড়, খেলায় নামলেন সংস্কৃতিমন্ত্রীও

মাগুরা প্রতিনিধি

লাঠিয়ালদের লাঠির কসরত, ঢাকঢোলের শব্দ আর দর্শকদের উল্লাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল মাগুরার মহম্মদপুরের ডুমুরশিয়া। শতবর্ষী ঐতিহ্যের ১০৬তম লাঠি খেলার আসর দেখতে জড়ো হন হাজারো মানুষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজেও লাঠি খেলায় অংশ নেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শুক্রবার বিকালে ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই খেলা ঘিরে পুরো এলাকা রূপ নেয় আনন্দঘন মিলনমেলায়। মহম্মদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শালিখা, শ্রীপুর, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা থেকে ছুটে এসেছিলেন নানা বয়সের দর্শনার্থীরা।

প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসে আয়োজিত এই লাঠি খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আর হরেক রকমের পণ্যের পসরায় জমে ওঠে চারপাশ।

ঢাকঢোল আর বাঁশির তালে মাঠের লড়াই বর্ণিল সাজে ও রং-বেরঙের পোশাকে মাঠে নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাঠিয়াল দলগুলো। লাঠিয়ালদের কসরত ও একে অপরকে ঘায়েল করার অভিনব দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শকদের। খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘লাঠি খেলা গ্রামবাংলার অত্যন্ত প্রাচীন ও জনপ্রিয়। লাঠি, হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা ও নৌকাবাইচের মতো আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ নিয়েছে।’

বহুদিনের লাঠিয়াল দলের প্রধান মানিক সরদার বলেন, পূর্বপুরুষদের দেখেই এই খেলায় আগ্রহ জন্মেছিল। এখন সব জায়গায় এর আয়োজন হয় না, তবে কার্তিকের এই মেলায় এলে বুক জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা থেকে আসা কবি হাফিজ রহমান বলেন, ‘ষাটের দশক থেকে আমাদের এই ঐতিহ্য চলে আসছে। ক্রিকেটের ভিড়ে আজ তা কোণঠাসা। এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।’

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, নতুন দল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়লেও পুরোনো লাঠিয়ালদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার তীব্র আগ্রহ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights