আইরিশ গণমাধ্যম কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার হুমকি
অনলাইন ডেস্ক
বোমা হামলার হুমকির মুখে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ফ্লাইটেও নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে বিঘ্ন ঘটেছিল।
ডাবলিনের ডনিব্রুকে অবস্থিত দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই-এর সদর দপ্তরে একটি হুমকি সংবলিত ইমেইল পৌঁছানোর পর সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ভবনগুলো থেকে উপস্থাপক ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ‘আইরিশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ সংবাদপত্রের কার্যালয় এবং ‘মার্কোনি হাউস’ যেখানে ‘নিউজটক’ ও ‘টুডে এফএম’ রেডিও স্টেশনগুলো অবস্থিত। সেখান থেকেও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
‘ভার্জিন মিডিয়া টেলিভিশন’-এর কাছেও একটি হুমকি-সংবলিত ইমেইল এসেছিল। তবে তারা জানিয়েছে, তাদের স্টুডিও থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়নি এবং সম্প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই হুমকির ফলে রেডিওর অনুষ্ঠানমালায় বিঘ্ন ঘটে। আরটিই সাময়িকভাবে রেকর্ড করা অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং পরবর্তীতে বাইরের একটি সম্প্রচার ইউনিটের মাধ্যমে পুনরায় সংবাদ প্রচার শুরু করে।
‘নিউজটক’-ও তাদের স্বাভাবিক অনুষ্ঠান প্রচার স্থগিত করেছিল। তবে হুমকিটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ার পর কর্মীদের পুনরায় কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এই ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই হুমকিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। মাইকেল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে এবং জনমনে ভয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বেশ কয়েকটি বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেক বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয় এবং যাত্রীবাহী বিমানগুলোকে সুরক্ষার জন্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে হয়েছিল। তবে হুমকি পাওয়া বিমানগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি।
আইরিশ পুলিশ জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আসা এই হুমকিগুলোর তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, কারা এর পেছনে রয়েছে অথবা এই হুমকিগুলো কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ কি না। আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে ‘ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটি’ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা একত্রিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মার্টিন উল্লেখ করেছেন, এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইউরোপের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
