হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ ইরানের
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে ইরান।
লন্ডনের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার পর তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ, আমরা আয়োডিন বিতরণ করছি। ট্রাম্পকে এখন আর বিশ্বাস করা যায় না। তিনি এই অপরাধ সংঘটিত করতেও পারেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের সময় ইরান সাধারণত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর দুই থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের কাছে আয়োডিন ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। এবারও সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
কেন বিতরণ করা হচ্ছে আয়োডিন ট্যাবলেট?
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে থাইরয়েড গ্রন্থিতে জমা হতে পারে। এতে থাইরয়েড ক্যানসারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
আয়োডিন ট্যাবলেট (পটাশিয়াম আয়োডাইড) থাইরয়েড গ্রন্থিকে স্থিতিশীল আয়োডিনে পূর্ণ করে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন শোষণ কমাতে সাহায্য করে। তবে এটি শরীরকে সব ধরনের তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা দেয় না। চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসব ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়।
ইরানের এক রাজনৈতিক সাংবাদিকের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির কর্মকর্তাদের একটি ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্গম একটি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এ ধরনের স্থাপনায় হামলা চালানো সামরিকভাবে জটিল। ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের উদ্বেগ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
