বাবা-মায়ের খোঁজে কক্সবাজারে নেদারল্যান্ডসের সেলিনা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাটে জন্মদাতা মা-বাবার খোঁজে এসেছেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক সেলিনা গোমেজ। দেড় বছর বয়সে দত্তক হয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে যাওয়ার ৪৫ বছর পর জন্মভূমিতে ফিরে পরিবারের সন্ধান করছেন তিনি। হাতে শৈশবের একটি ছবি ও পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।
১৯৮১ সালের ৭ জুলাই, মাত্র দেড় বছর বয়সে দত্তক নেওয়া পরিবারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস পাড়ি জমান সেলিনা। ৪৫ বছর পর জন্মস্থানে ফিরে চকরিয়ার মালুমঘাট, ঘুটাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে লিফলেট হাতে নিয়ে পরিবারের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
জন্মস্থানের কোনো স্মৃতিই তার প্রায় মনে নেই। তবে পুরোনো কাগজপত্রে পাওয়া নাম ও জন্মস্থানের সূত্র ধরে জন্মদাতা বাবা-মা ও স্বজনদের খুঁজতে এসেছেন তিনি। সেলিনা এখন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তার আশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে এবং একদিন তিনি পরিবারের সন্ধান পাবেন।
সেলিনার ভ্রমণসহযোগী রাশেল আলম জানান, সেলিনা প্রথম বাংলাদেশে আসেন প্রায় সাত-আট বছর আগে। এরপর কয়েকবার এসেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান ২৮ অক্টোবর। এক পরিচিতের মাধ্যমে সেলিনার সঙ্গে রাশেলের পরিচয় হয়। তখন থেকেই তিনি জন্মদাতা পরিবারের খোঁজে সহযোগিতা করছেন।
রাশেল আলম বলেন, ‘সেলিনা আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাংলাদেশে থাকবেন। এখন তিনি কক্সবাজারে আছেন। আমরা একসঙ্গে তার পরিবারের খোঁজ চালিয়ে যাব।’
সেলিনার কাছে থাকা কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে শৈশবের একটি সাদাকালো ছবি এবং নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের ফটোকপি। পাসপোর্টে তার জন্ম তারিখ ৭ জুলাই ১৯৮১ ও জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা রয়েছে। পরিবারের সন্ধানে এসব কাগজই এখন তার প্রধান ভরসা।
সেলিনা বলেন, ‘আমি আমার বাবা-মাকে খুঁজছি। তাদের খুব মিস করি। আমি তাদের মনে করতে পারি না। তবে জানি, আমার মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ ও বাবার নাম বেনেডি গোমেজ। নেদারল্যান্ডসে আমি একা অনুভব করি। আশা করি, বাবা-মাসহ আমার পরিবারকে খুঁজে পাব।’
জন্ম ও দত্তক নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জেনেছি, মালুমঘাটে আমার জন্ম। দেড় বছর বয়সে এক নারী আমাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ডাচ পরিবার আমাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যায়। আমি সেই পরিবারে যত্ন ও ভালোবাসায় বড় হয়েছি।’
