কুড়িগ্রামে বন্যায় ভেসে গেছে ৬৫০ পুকুরের মাছ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে সকল নদনদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যে ৬টায় পাউবো জানায়, পানি কমে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ১২ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও কমে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখনও চরমে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চালু থাকলেও এখনও অনেকের হাতে ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন বানভাসীরা।
এসব এলাকার মানুষজন গত ৪-৫ দিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘরের ভেতরে পানি ওঠায় ও জ্বালানী সংকটে অনেকেই রান্নাবান্না করতে পারছেন না। গো-খাদ্যসংকটে গরু, ছাগলসহ গবাদি পশুগুলো পড়েছে বিপদে। স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে বন্যাকবলিত এসব পরিবার। জেলা মৎস কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, চলতি বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৫০টি পুকুরের ১৩০ মে. টন মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, বন্যার কারণে ১ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে শাক-সবজি ২৬২ হেক্টর, আউসধান ২৪৪ হেক্টর, বীজতলা ৩৮০ হেক্টর, কলা ২০ হেক্টর এবং পাট ৫৮১ হেক্টর। তবে শাকসবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম জানান, বন্যার কারণে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, এখন পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ৩৬৩ মে. টন চাল, সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ও ২২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ মে. টন চাল, ১০ লক্ষ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
