অনিয়মে স্থবির খুলনা জেলা পরিষদ, সিইও’র বদলি আদেশ স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে খুলনা জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্তে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
জানা যায়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত, সিইও) তাছলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি বাসা সংস্কারের নামে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন, জেলা পরিষদের ভাড়া করা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, যোগদানের পরই তিনি পরিষদের সচিবের জন্য নির্ধারিত ‘কনডেমড’(ব্যবহার অনুপযোগী) সরকারি বাসাটি ৫ হাজার টাকায় বরাদ্দ নেয়। এই বাসাটি মেরামতের জন্য ৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বাসা সংস্কারের নামে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। নিয়মবর্হিভূতভাবে কনডেমড বাসায় দোলনা স্থাপনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে আরও ১ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে গত ১৯ নভেম্বর তাছলিমা আক্তারকে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাব বিস্তার করে তিনদিনের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বদলি স্থগিতের পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তাছলিমা আক্তার। তুচ্ছ কারণে জেলা পরিষদের কর্মচারিদের ‘কারণ দর্শানো নোটিশ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আধিপত্য’র কারণে কর্মস্থলে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি, কয়েকটি সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প মাসের পর মাস ঝুলে আছে।
এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি জেলা পরিষদের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতা, সরকারি বাসভবন পরিত্যক্ত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে দুদক অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে।
এ বিষয়ে তাছলিমা আক্তার বলেন, সব প্রকল্প সরকারি বিধি মেনে চলছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যয় হয়নি। গড়িমসি নয়, বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সময় লেগেছে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন কর্মকর্তার বাসভবন সংক্রান্ত বিষয় এবং জেলা পরিষদের কয়েকটি প্রকল্পে অনুমোদনের অস্বচ্ছতার অভিযোগে দুদকের একটি টিম তদন্ত করছে।
