অপহরণ-হত্যা: কাকাসহ ২ জনের যাবজ্জীবন
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী গ্রামে মেহেরাজ হোসেন ওরফে জিসান (৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিশুকে অপহরণ করে হত্যার দায়ে ২ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে আসামীদের দুটি ধারায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, শিশুকে হত্যা করে মাইকিং করে আসামীরা এবং মুক্তিপণ হিসেবে চাঁদা দাবি করে। সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আবদুর রহিম ওরফে রনি (২১) ও একই গ্রামের সহিদ উল্যার ছেলে মো.সালমান হোসেন শিবলু (২২)।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ এর বিজ্ঞ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন। এদিকে নিহত শিশুর পরিবার এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে। তারা ফাঁসি দাবি করেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী ভিকটিম পরিবার সূত্রে জানা যায়, হত্যার শিকার জিসান স্থানীয় জিরতলী বাজারের কাসেম উলুম মাদরাসার দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিলেন। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভিকটিমের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে অপরহরণ করে নিয়ে যায় আসামি রনি ও তার বন্ধু শিবলু।
পরে তাকে জেলার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের এসআই মহিন পুলিশের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে। একই দিন সন্ধ্যার পরে তার পরনের জামা কাপড় দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তার শরীরের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে রাখে। পরে শিশুটি অপহরণ হয়েছে মর্মে মাইকিং করে আসামীরা এবং একই সাথে নিহতের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনার দুদিন পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের মায়ের মুক্তিপণ দাবি করা ব্যক্তিদের মোবাইল ট্রাকিং করে পুলিশ তদন্ত করে ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। আদালত স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন।
ভিকটিম শিশুর নানা লোকমান হোসেন জানান, তারা এ মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে যাবে। তারা ফাঁসির দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মামুনুর রশীদ লাভলু মামলাটি পরিচালনা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আবদুল হক।
তিনি বলেন, ভিকটিমের পিতা প্রবাসী ছিল। আসামি রনি ভিকটিম জিসানের একই বাড়ির দূর সম্পর্কের কাকা হয়। মূলত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনতে রনি তার বন্ধু লাভলুসহ অপহরণের ঘটনা ঘটায়। পরে তারা জিনাসকে হত্যা করে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে। আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় দেন।
