অভিজাত অধিনায়কদের তালিকায় ইমরান খানদের পাশে বাবর আজম

অনলাইন ডেস্ক

সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট মিলিয়ে ১৫০ বা তার বেশি ম্যাচে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া পাকিস্তানের তৃতীয় অধিনায়ক হলেন দেশটির তারকা ব্যাটার বাবর আজম। এর মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি অধিনায়ক ইমরান খান ও সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের মতো বিশেষ এক ক্লাবে নিজের নাম লেখালেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন অ্যাওয়ে টেস্ট সিরিজের আগে শান মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন ব্যাটার বাবর আজম। তার অধিনায়কত্বের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সব মিলিয়ে বাবর এখন পর্যন্ত ১৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে কেবল ইমরান খান(১৮৭টি ম্যাচ) এবং মিসবাহ-উল-হকই (১৫১টি ম্যাচ) দেশটির হয়ে এর চেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সব ধরনের ফরম্যাটে পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে জয়ের তালিকায় ৮৪টি জয় নিয়ে বাবর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন; তার সামনে আছেন ইমরান খান(৮৯ জয়) এবং পেছনে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মিসবাহ-উল-হক(৭৭ জয়)। সব মিলিয়ে ১৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার পরিসংখ্যান হলো ৮৪টি জয়, ৫১টি হার, দুটি টাই, চারটি ড্র এবং আটটি অমীমাংসিত ম্যাচ রয়েছে। তার সার্বিক জয়ের হার ৫৬ শতাংশ।

এই তালিকায় বাবরের ঠিক পরেই রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম, যিনি ১৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন; এছাড়া শীর্ষ ছয়জনের তালিকায় বাকি দুজন হলেন ইনজামাম-উল-হক (১১৯ ম্যাচ) ও সরফরাজ আহমেদ (১০০ ম্যাচ)।

ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটে বেশ ভালো রেকর্ড নিয়েই ৩১ বছর বয়সী বাবর আজম পুনরায় টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব নিচ্ছেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে তিনি ২২টি টেস্টে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেন; এর মধ্যে ১০টিতে জয়, সাতটিতে হার এবং চারটিতে ড্র হয়। যা তার জয়ের হারকে ৪৫.৪৫ শতাংশে দাঁড় করিয়েছে।

তার পূর্বসূরি শান মাসুদকে ২০২৩ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তান তিনটি টেস্টেই হেরেছিল; সব মিলিয়ে ১৬টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে মাসুদ চারটি জয় ও ১২টি হারের রেকর্ড নিয়ে তার মেয়াদ শেষ করেন। তার জয়ের হার ছিল ২৫ শতাংশ।

বাবরের নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে, যখন তাকে দেশটির টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়। এরপর ২০২০ সালের মে মাসে তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় এবং ওই বছরের শেষের দিকে তিনি টেস্ট দলের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

সব ফরম্যাটে পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে তার প্রথম অধ্যায় শেষ হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে; ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে পিসিবি তাকে পুনরায় ‘হোয়াইট-বল’ ক্রিকেটের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে কাজের চাপ সামলানো এবং নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাবর আবারও পদত্যাগ করেন। সাদা বলের ক্রিকেটে দুই দফায় অধিনায়কত্বের সময় বাবর ৪৩টি ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৬টি জয় পেয়েছেন; পাশাপাশি ৮৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশটির হয়ে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড গড়েছেন এবং এর মধ্যে ৪৮টি ম্যাচে জয়লাভ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights