অসহায় বিচারপ্রার্থীদের পাশে লিগ্যাল এইড: ঢাকায় ৩ মাসে ২৪০ হাজতির জামিন
বাসস
অসহায়, দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা (লিগ্যাল এইড)। ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সহায়তায় গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জামিন পেয়েছেন ২৪০ জন হাজতি। তাদের বেশিরভাগই রিকশাচালক, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিক ও গৃহকর্মী।
ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে ৪টি সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এগুলো হলো-আইনি পরামর্শ, সরকারি খরচে মামলা পরিচালনা, উকিল ফি ও মামলার যাবতীয় খরচ মওকুফ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে আপস-মীমাংসা। জমি, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের মামলায় লিগ্যাল এইডে এই সুবিধা মিলছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র আওতায় দেশের প্রতিটি জেলায় এই সেবা পরিচালিত হয়। আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী, যাদের বার্ষিক আয় দেড় লাখ টাকার কম, কর্মক্ষম নন, ভূমিহীন, অসহায়, বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক এবং কারাগারে আটক যেকোনো ব্যক্তি বিনা পয়সায় আইনজীবী পাওয়ার যোগ্য। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা আয়-সীমা বিবেচনা ছাড়াই এই সহায়তা পান।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) সায়েম খান বলেন, অনেক হাজতি জানেনই না যে, সরকার বিনা পয়সায় আইনজীবী দেয়। কারাগারে আমাদের লিগ্যাল এইড ক্লিনিক রয়েছে। সেখানে আবেদন করলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। টাকার অভাবে কেউ যেন বিনা বিচারে জেলে না থাকে-এটাই আমাদের লক্ষ্য ।
তিনি বলেন, আইনি পরামর্শ, সরকারি খরচে মামলা পরিচালনা, উকিল ফি ও মামলার যাবতীয় খরচ মওকুফ এবং এডিআর-এর মাধ্যমে আপস-মীমাংসা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে করা যায়। জমি, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের মামলায় সুবিধা মিলে লিগ্যাল এইড অফিসে ।
সায়েম খান বলেন, ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে সরাসরি এসে অথবা জাতীয় হেল্পলাইন ‘১৬৬৯৯’ (টোল ফ্রি) নম্বরে কল করে যে কেউ এই সহায়তা চাইতে পারেন। অনলাইনেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ উদ্দিন বলেন, আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, ‘আদালত মানেই বিপুল খরচ, আর মামলার পেছনে দৌড়ানো মানেই সর্বস্বান্ত হওয়া’। এই ভয়ের কারণে অনেকেই অন্যায় সহ্য করেন, কিন্তু আইনের আশ্রয় নিতে চান না। আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই-আপনার যদি টাকার অভাব থাকে, তাহলে বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন না। টাকার অভাবে আর হবে না বিচার বন্ধ, সরকারি খরচে আইনি সহায়তায় খুলছে নতুন দিগন্ত।
লিগ্যাল এইড অফিসে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়:
বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ: যেকোনো আইনি সমস্যায় অফিসে এসে কোনো ফি ছাড়াই সরাসরি আইনজীবীর কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার সূযোগ রয়েছে।
বিনা খরচে মামলা পরিচালনা: জমিজমা, পারিবারিক সমস্যা, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা যেকোনো ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় সরকারি খরচে সুযোগ রয়েছে।
আইনজীবী ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ মুক্ত: মামলা দায়ের, আইনজীবীর ফি, আরজির খরচসহ মামলার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করে। কোনো প্যানেল আইনজীবীকে একটি টাকাও দিতে হয় না।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর): মামলা-মোকদ্দমা ছাড়াই ঘরে বসে বা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিনামূল্যে মধ্যস্থতা করা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়।
কারা এই সুবিধা পাবেন:
যাদের বার্ষিক আয় সীমিত, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, পাচারের শিকার নারী বা শিশু, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনজীবী নিয়োগে অক্ষম যেকোনো অসহায় ব্যক্তি এই সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
