আওয়ামী লীগ আমলে হারানো বসতভিটা ফিরে পেতে চান বিএনপি কর্মী মতি মিয়া
ফরিদপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারছেন না বিএনপি কর্মী মতি মিয়া। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ইন্ধনে মতি মিয়ার বসতবাড়ীটি দখল করে নেয় তৈয়ব আলী নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটা হারিয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন ৭২ বছর বয়সী মতি মিয়া। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার পালাবদল হলেও অসহায় মতি মিয়া ফিরতে পারছেন না তার নিজ বসতবাড়ীতে। বসতবাড়ী দখল করা তৈয়ব আলী ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে মতি মিয়ার পরিবারকে। ফলে এখনো বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হতদরিদ্র মতি মিয়া।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মতি মিয়া কয়েক বছর আগে বিভিন্ন জনের কাছে ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরই সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তৈয়ব আলী মতি মিয়ার বসতবাড়ীর জমিটি হাতিয়ে নিতে ফন্দি আঁটেন। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দাপট ও মামলার ভয় দেখিয়ে মতি মিয়াকে বাড়ী ছাড়া করেন। বিএনপি করার কারণে মতি মিয়া মামলা, হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। এ সুযোগে গত বছর তৈয়ব আলী তার লোকজন নিয়ে মতি মিয়ার বসতবাড়ীতে গিয়ে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ফেলে এবং সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে তারা মতি মিয়ার ১১ শতাংশ জমিসহ বসতবাড়ীটি দখল করে নেয়। পরে জমিটিতে থাকা বেশকিছু গাছপালা কেটে ফেলে। বসতবাড়ী ভাঙচুর ও দখল করে নেওয়ার পরেও আওয়ামী লীগের দাপটে কোন কিছুই করতে পারেননি মতি মিয়া। সেই সময় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গেলেও থানা কোন অভিযোগ নেয়নি। তাছাড়া স্থানীয় ব্যক্তিদেরর পাশে পাননি মতি মিয়া। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হবার পর নিজ বসতভিটা উদ্ধারে এলাকায় যান মতি মিয়া। স্থানীয়রা মতি মিয়াকে সহযোগীতা করলেও প্রভাবশালী একটি মহল তৈয়ব আলীর পক্ষ নেওয়ায় তিনি তার বাড়ীটি উদ্ধার করতে পারছেন না। এ নিয়ে মতি মিয়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিএনপি কর্মী মতি মিয়া বলেন, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি করার অপরাধে তাকে চাপের মধ্যে ফেলে এবং মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি লাবু চৌধুরী, উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী শাহজামান বাবুলের ইন্ধনে তৈয়ব আলী তার বসতভিটাটি দখল করে নেয়। এলাকায় যেতে না পারা এবং বসতভিটা হারিয়ে তিনি স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতারা এলাকায় না থাকলেও প্রভাবশালী একনেতা তৈয়ব আলীকে শেল্টার দিচ্ছে। যার কারণে আমি আমার বসতভিটায় ফিরতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটা ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি বলেন, আমি নাকি টাকা নিয়ে বসতবাড়ী লিখে দিয়েছি, যদি তাই হয় তাহলে সেই কাগজপত্র দেখাক। কাগজপত্র দেখাতে পারলে আমি তা মেনে নেবো।
অভিযোগের বিষয়ে তৈয়ব আলী বলেন, আমি কখনোই আওয়ামী লীগ করিনি। আমি খেলাফত মজলিশের নেতা। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মতি মিয়া তার বসতবাড়ী আমাকে দিয়েছে। এটি এলাকার সবাই জানে। টাকা নেয়া কিংবা জমির দলিল দেখাতে বললে তৈয়ব আলী তেমন কিছুই দেখাতে পারেনি।
